আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও -আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও-যে জন আমার মাঝে জড়িয়ে আছে ঘুমের জালে..আজ এই সকালে ধীরে ধীরে তার কপালে..এই অরুণ আলোর সোনার-কাঠি ছুঁইয়ে দাও..আমার পরান-বীণায় ঘুমিয়ে আছে অমৃতগান-তার নাইকো বাণী নাইকো ছন্দ নাইকো তান..তারে আনন্দের এই জাগরণী ছুঁইয়ে দাও সন্তান প্রসব পরবর্তীকালীন মাতৃত্বের বিষণ্ণতা--- ডাঃ শুভাগতা সেন ~ alokrekha আলোক রেখা
1) অতি দ্রুত বুঝতে চেষ্টা করো না, কারণ তাতে অনেক ভুল থেকে যায় -এডওয়ার্ড হল । 2) অবসর জীবন এবং অলসতাময় জীবন দুটো পৃথক জিনিস – বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন । 3) অভাব অভিযোগ এমন একটি সমস্যা যা অন্যের কাছে না বলাই ভালো – পিথাগোরাস । 4) আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও , আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট । 5) আমরা জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহন করি না বলে আমাদের শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না – শিলার । 6) উপার্জনের চেয়ে বিতরণের মাঝেই বেশী সুখ নিহিত – ষ্টিনা। 7) একজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি আরেকজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি কে জাগ্রত করতে পারে না- শেখ সাদী । 8) একজন দরিদ্র লোক যত বেশী নিশ্চিত , একজন রাজা তত বেশী উদ্বিগ্ন – জন মেরিটন। 9) একজন মহান ব্যাক্তির মতত্ব বোঝা যায় ছোট ব্যাক্তিদের সাথে তার ব্যবহার দেখে – কার্লাইন । 10) একজন মহিলা সুন্দর হওয়ার চেয়ে চরিত্রবান হওয়া বেশী প্রয়োজন – লং ফেলো। 11) কাজকে ভালবাসলে কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায় – আলফ্রেড মার্শা
  • Pages

    লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে

    সন্তান প্রসব পরবর্তীকালীন মাতৃত্বের বিষণ্ণতা--- ডাঃ শুভাগতা সেন


    সন্তান প্রসবের পর মাতৃত্বের  বিষণ্ণতা

    ডাঃ শুভাগতা সেন

    উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এই উদ্বেগ দুশ্চিন্তা প্রকট আকার ধারণ করলে দুশ্চিন্তা ভীতির সম্মুখীন হয় যা মারাত্মক আকার ধারণ করলে বিষণ্ণতায় পরিণীত হয়।
    যদি এই বিষন্নতা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় তবে তা প্রাত্যহিক ও সামাজিক জীবনে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করে। নানান কারণে বিষন্নতা হতে পারে।এর প্রতিকারের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে পারিবারিক সহানুভূতি এবং  ভালোবাসা। তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।



      

    আজকের আলোচ্য বিষয় মেয়েদের প্রসব পরবর্তীকালীন বিষন্নতা নিয়ে।বিষণ্ণতা এক প্রকার মানসিক সমস্যা,যার কারণে একজন ব্যক্তি স্থায়ীভাবে দুঃখভারাক্রান্ত অনাগ্রহ বোধ করে থাকে। এই সমস্যাকে মেজর ডিপ্রেশন (major depression), মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার (major depressive disorder) ক্লিনিকাল ডিপ্রেশনও (clinical depression) বলা হয়।বিষণ্ণতা অনুভূতি, চিন্তাভাবনা এবং আচরণের উপর প্রভাব ফেলে।বিষণ্ণতার কারণে দৈনন্দিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এমন কি জীবন অর্থহীন মনে হতে পারে। বিষণ্ণতা কোনো সাধারণ মানসিক দুর্বলতা নয়।কিছু ক্ষেত্রে-এর নিরাময়ের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নেওয়ারও প্রয়োজন হয়। তবে সঠিক সময় এই সমস্যার লক্ষণ উপসর্গ নির্ণয় যত্ন কাউন্সিলিং করলে এই বিষণ্ণতার অবস্থার উন্নতি ঘটে।






    প্রসব পরবর্তী বিষন্নতার প্রধান কারণ হিসাবে গবেষক হরমোনের তারতম্যকে মনে করেন।গর্ভকালীন সময় মেয়েদের হরমোন ইষ্ট্রোজে প্রজেসটারোন উচ্চমাত্রায় থাকে।সন্তান জন্ম হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টায় এই ইষ্ট্রোজেন, প্রজেসটোরেন হঠাৎ করে কমে যায় এবং আগের অবস্থায় ফিরে যায়।এই দ্রুত হরমোনের পরিমাণ পরিবর্তীত হওয়ার জন্য বিষন্নতা হয় বলে মনে করা হয় কেননা মহিলাদের মাসিক ঋতুচক্রের সময় হরমোনের পরিমাণের সামান্য তারতম্যের কারণে মহিলাদের মেজাজের পরিবর্তন হয়৷ মাঝে মাঝে থাইরয়েড হরমোন প্রসব পরবর্তী সময়ে কমে যায় যেটা বিষন্নতার লক্ষণসমূহ যেমন খিটখিটে মেজাজ, দুর্বলতা, মনোযোগহীনতা, ঘুমের সমস্যা এবং ওজন বেড়ে যাওয়া৷ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই হরমোনের তারতম্য বোঝা যায়৷ সেজন্য ডাক্তারের পরামর্শে থাইরয়েড হরমোন নেয়া যেতে পারে৷




    সুস্থ মাতৃত্ব সব নারীর অধিকার। সন্তান ধারণ থেকে প্রসবের পর পর্যন্ত যদি মায়ের সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করা না হয়।তাহলে কখনোই সেই মায়ের কাছে থেকে সুস্থ সবল নবজাতকের আশা করা যায় না। গবেষণায় দেখা যায় প্রায় ৩৩ শতাংশ নারীরাই গর্ভাবস্থায় বিষণ্ণতায় ভুগে থাকেন।তথ্যানুসারে বেশীর ভাগ মায়েরা কোনরূপ চিকিৎসা বা সঠিক তত্বাবধান ব্যতিরেকে সন্তান জন্ম দেন ।যার প্রভাব সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকটির উপর পড়ে
        

                                
    বিষণ্ণতা বা মানসিক অস্থিরতায় ভোগা মায়ের সন্তান পরবর্তীতে নানা ধরণের মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়, যেমন  একটানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে বিষণ্ণ মেজাজে থাকা। যে কোন কিছু করার জন্য আগ্রহ লোপ পাওয়া। খুব পছন্দের কোন কাজ বা ঘটনাতেও আনন্দ লাভ না করা। অপরাধ বোধে ভোগা। কাজে অনীহা। ক্ষুধা মন্দা দুর্বলতা অনুভব করা। খুব বেশী ঘুম অথবা সম্পূর্ণ ঘুমহীন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাওয়া। তাই প্রথম থেকেই গর্ভবতী নারীর বিষণ্ণতায় ভোগার লক্ষণ শনাক্ত করে তার প্রতিকারে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।





    গর্ভবতী হলে কেউ অনেক উৎফুল্ল,আবার কেউ আকস্মিকতায় হতবিহ্বল অনুভব করতে পারেন। অনেক দিন চেষ্টা করে মা হতে চলেছেন, তারপরও খুব বেশি উৎফুল্ল বোধ করছেন না, এমন হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই।গর্ভবতী অবস্থায় হরমোনের প্রভাবে মায়ের মনোভাবে তারতম্য ঘটতে পারে, হঠাৎই বেশি আবেগাপ্লুত বা উদ্বিগ্ন হতে পারেন। এ সম্পর্কে আপনি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। পরিবারের সদস্য এবং বন্ধু-বান্ধব সবারই এসময়ে গর্ভবতী মায়ের পাশে থেকে সাহস যোগাতে হবে। আপনি মা হতে প্রস্তুত না হলে তারাই আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে। আপনার স্বামী বা সঙ্গীও ভিন্নরকম অনুভব করতে পারেন, তবে গর্ভবতী মায়ের পরিবর্তনশীল মনোভাবের দিকে লক্ষ্য রেখে তারা সব কথা খুলে বলতে পারেন না। দুজনেরই এসময় মন খুলে একে অপরের কাছে অনুভূতি ব্যক্ত করা প্রয়োজন। গর্ভবতী মায়েদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি তা হলো মা ও শিশু স্বাস্থ্য ক্লিনিকে প্রসবপূর্ববর্তী সেবার জন্য নাম অন্তর্ভুক্ত করা।



    গর্ভকালীন সময় মেয়েদের হরমোন ইষ্ট্রোজেন  প্রজেসটারোন উচ্চমাত্রায় থাকে সন্তান প্রসবের পর
    ২৪ ঘণ্টায় এই ইষ্ট্রোজেনপ্রজেসটোরেন হঠাত্ করে কমে যায়  আগের অবস্থায় ফিরে যায়,এই দ্রুত হরমোনের পরিমাণ পরিবর্তীত হওয়ার জন্য বিষন্নতা হয় বলে মনে করা হয়। মহিলাদের মাসিক ঋতু-চক্রের সময়  হরমোনের পরিমাণের সামান্য তারতম্যের কারণে মহিলাদের মেজাজের পরিবর্তিত হয়।
    প্রসবোত্তর মায়েদের মস্তিষ্কের নিউরনে পরিবর্তন ও প্রসব পরবর্তী সময়ে শরীরে হরমোনের মাত্রা কমে যায় বলে,এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।তাছাড়া মা যদি আগে মানসিকভাবে অসুস্থ থাকেন অল্প বয়সে মা হওয়া পরিবারের মায়ের মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস থাকলে সদ্যজাত সন্তানের যত্নের ব্যাপারে মায়ের ওপর চাপ মানসিক চাপ দাম্পত্য অশান্তি,কলহ ইত্যাদি।
    প্রসবের পর ক্লান্তি, ঘুমের ব্যাঘাত এবং বিশ্রামহীনতা নব জাতককে সঙ্গে নিয়ে সম্পূর্ণ একটা নতুন পরিবেশে নবজাতকের যত্ন নেয়া এবং ঠিকমতো নবজাতককে যত্ন করা সর্ম্পকে সন্দেহ৷ বাচ্চার কারণে ঘরে বাইরের দৈনন্দিন কাজের সময়সূচির পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘক্ষণ ঘরে থাকা ও বাচ্চাকে সময় দিতে গিয়ে স্বামীকে বা পরিবারের জন্য কাউকে সময় দিতে না পারায় নিজস্ব পরিচয় হারানোর ভয় (প্রসব পূর্ববর্তী পরিচয় বা বাচ্চাকে যত্ন করতে গিয়ে ব্যথা দেয়ার ভয় । 
    এছাড়াও নিম্ন লিখত কারন গুলোও বিশেষ উল্লেখযোগ্য।



    • ·         জরায়ুমুখ প্রসারিত না হওয়া ও প্রসবে বিলম্ব হওয়া
    • ·         সন্তানকে দুগ্ধদান করতে না পারা গর্ভকালীন সময়ে ঘুমের সমস্যা
    • ·         কম বয়সে সন্তান ধারণ
    • ·         দাম্পত্যে অশান্তি সন্তানের জন্য মায়ের উপর চাপ প্রয়োগ
    • ·         মৃত বাচ্চা প্রসব পরিবারের সদস্যদের সহায়তা না পাওয়া
    • ·         সন্তান দেখতে মনের মত না হওয়া
    • ·         নিজের পেশাগত জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তা
    • ·         প্রসবোত্তর শারীরিক গঠনে পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তা ।
    প্রসব পরবর্তী নবজাতক মায়েরা যে ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন

    . বেবি ব্লু (Baby Blue)

    . পোস্টপার্টাম সাইকোসিস (Postpartum Psychosis)

    . পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (Postpartum Depression)

    . পোস্টপার্টাম এনক্সাআইটি (Postpartum Anxiety)

    . পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (Post-Traumatic Stress Disorder)

    শিশুর জন্মের সপ্তাহ পর শতকরা ৮০ ভাগ মায়েরাই এক ধরনের বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হন, অকারনে কান্না আসে। এই সময়টাকেবেবি ব্লু’ (baby blue) বলা হয়। শিশুর জন্মের পর শরীরে হরমোনের বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, সে কারনে এমনটা হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এই বিষণ্ণতা মারাত্মক আকার ধারন করে, মানসিক ভাবে অসুস্থ করে ফেলে। শতকরা ৫০-৭০ ভাগ প্রসবোত্তর মা বেবি ব্লু সমস্যায় ভোগেন। প্রসবের তিন-চারদিন পর এ ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় ও সন্তান প্রসবের পর মায়ের হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে।


    লক্ষণসমূহ


    • ·         চোখমুখে ঘোলা ঘোলা ভাব
    • ·         ক্ষণে ক্ষণে মনের আবস্থার পরিবর্তন হওয়া
    • ·         অকারণেই কেঁদে ফেলা
    • ·         মেজাজ খিটখিটে হওয়া
    • ·         অনিদ্রা
    • ·         সন্তানের প্রতি অমনোযোগী
    • ·         যে কোনো বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ
    • ·         হঠাৎ হঠাৎ অধৈর্য হওয়া
    • ·          
    পোস্টপার্টাম সাইকোসিস (Postpartum Psychosis)

    পোস্টপার্টাম সাইকোসিস প্রসবোত্তর মানসিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। প্রতি হাজারে এক থেকে দুজন প্রসূতি মা রোগে আক্রান্ত হন। সাধারণত প্রসবোত্তর প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তায় রোগটি দেখা দেয়।

    লক্ষণসমূহ


    • ·         ঘুম না হওয়া
    • ·         যখন তখন বিরক্তি প্রকাশ
    • ·         মেজাজ খিটখিটে হওয়া
    • ·         খাওয়া-দাওয়া ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদাসীন
    • ·         অযথা ভয় পাওয়া
    • ·         সন্তানের যত্ন না নেয়া
    • ·         নবজাতক সম্পর্কে ভ্রান্ত বিশ্বাস

    পোস্টপার্টাম সাইকোসিস হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। সাইকোথেরাপি, সামাজিক সচেতনতার উন্নয়ন এন্টিসাইকোটিক ঔষুধ দ্বারা রোগের চিকিৎসা করা হয়। প্রয়োজনে বৈদ্যুতিক চিকিৎসা (ইসিটি) ব্যবহার করা যেতে পারে। তাতে কয়েক মাসের মধ্যেই অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে যায়। কিছু কিছু রোগীর অসুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।

    পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (Postpartum Depression)

    ১০-১৫% ভাগ মা প্রসবোত্তর বিষণ্ণতায় ভোগেন। এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩০% নারী শিশু জন্মপূর্ব বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হন। প্রায় ৫০% প্রসবোত্তর বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হন। সাধারণত প্রসবের দুই সপ্তাহ পর সমস্যা শুরু হয়।



    লক্ষণসমূহ


    • ·         মায়ের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়
    • ·         সব কিছুতে উদাস থাকা
    • ·         ক্লান্তিবোধ করা
    • ·         অহেতুক দুশ্চিন্তা
    • ·         বিষাদগ্রস্থ থাকা
    • ·         খাওয়াতে অরুচি
    • ·         ঘুমাতে কষ্ট
    • ·         সন্তানের প্রতি অনাগ্রহ
    •       প্রসূতির মনে ধারণা হওয়া যে তার সদ্যজাত সন্তানের কোনো শারীরিক বা মানসিক খুঁত আছে। কাজেই একে মেরে ফেলাই ভালো।
    •        প্রসূতি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন।

    ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত প্রসূতি মায়েদের জন্য বিষন্নতা বিরোধী ঔষধ এবং থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। যদি এই রোগ তীব্র আকার ধারণ করে, তবে রোগীকে ইলেকট্রিক শক থেরাপি দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা।

    পোস্টপার্টাম এনক্সাইটি (Postpartum Anxiety)

    শতকরা ১০ ভাগ প্রসূতি মায়েরা ধরনের মানসিক রোগে ভুগতে থাকেন। প্রসবোত্তর উদ্বেগ সঙ্গে, একটি মায়ের শিশুর স্বাস্থ্য এবং উন্নয়ন, একটি ভাল পিতা বা মাতা হতে তার ক্ষমতা, এবং কিভাবে তিনি কাজ এবং বাড়িতে ভারসাম্য বা একাধিক শিশুদের জন্য যত্ন ভারসাম্য উপর ক্রমাগত উদ্বেগ হতে পারে। তিনি অস্থির এবং মুডির হয়ে উঠতে পারেন, অথবা দ্রুত হৃদয়গ্রাহী, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, বা অনিদ্রার মত শারীরিক উপসর্গগুলি উপভোগ করতে পারেন।



    লক্ষণসমূহ


    • ·         চরম উদ্বেগে থাকা
    • ·         কোন কারন ছাড়াই চরম অস্বস্তিবোধ হতে থাকা
    • ·         শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট
    • ·         বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি
    • ·         মাথা ঘোরা
    • ·         নির্জীব থাকা
    • ·         শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া
    • ·         নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা
    • ·         পাগল হয়ে যাওয়ার ভয় বা মৃত্যু ভয়ে আতঙ্কিত হওয়া

    পোস্টপার্টাম এনক্সাইটিতে আক্রান্ত মায়েদের কাছ থেকে শিশুকে কিছু দিনের জন্য একটু দূরে রাখাই শ্রেয়।

    ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত মায়েদের চিকিৎসা হিসেবে স্বাস্থ্যকর নিরিবিলি জায়গা থেকে কয়েকদিন কাটিয়ে আসলে রোগ থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

    পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (Post-Traumatic Stress Disorder)

    সন্তান প্রসবের পর -প্রসূতি নারী এই সমস্যায় আক্রান্ত হন।জন্মানোর সময় তীব্র শারীরিক কষ্ট- 
    পাওয়া স্বাভাবিক প্রসবের বদলে অপরিকল্পিত সিজারিয়ান,সন্তান জন্মানোর মুহূর্তে হঠাৎ মায়ের  জতিলতা বা শিশু জন্মানোর পর সন্তানকে যদি আইসিওতে রাখা ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যার কারনে প্রসূতি মা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হন।



    লক্ষণসমূহ


    • ·         সন্তান জন্মের মুহূর্তগুলো দু: স্বপ্ন হয়ে প্রতিনিয়ত দেখা দেয়া
    • ·         বিষন্নতা
    • ·         অনিদ্রা
    • ·         উদ্বেগ এবং হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই আতঙ্কিত হয়ে পড়া
    • ·         বাস্তবতা এবং জীবন থেকে নিজেকে দূর সরিয়ে রাখা
    • ·         অতীতে কোনো দূর্ঘটনায় পুনরায় স্মৃতি ফিরে আসা এবং ভয়ে নিজেকে সিঁটিয়ে রাখা
    ধরনের মানসিক রোগে আক্রান্ত মায়েদের মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া খুব প্রয়োজন। যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে প্রসূতি মা দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।


    সন্তান জন্মদান একজন নারীর জীবনে পরম আকাঙ্ক্ষিত ধন। সন্তান প্রসবের পর পর মায়ের দেহে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। নানা শারীরিক মানসিক অসুস্থতা দেখা দেয়। সন্তান প্রসবের পর মানসিক সমস্যার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। সন্তান প্রসবের পর মা ও শিশুর শরীর দূর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। এ সময় সঠিক যত্ন নিলে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এসব জটিলতা এড়ানো সম্ভব। প্রসবের পর সঠিক যত্ন নিলে মায়ের শরীর যেমন  তাড়াতাড়ি সুস্থ হয় তেমনি শিশু সুস্থ থাকে ও সবল হয়ে উঠে। রোগের লক্ষণ বোঝার চেষ্টা করা এবং দ্রুত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুবই প্রয়োজন। দাম্পত্য কলহ মিটিয়ে সদ্যপ্রসূতির শারীরিক মানসিক বিশ্রামের ব্যবস্থা করা, সদ্যজাত শিশুর যত্নে পরিবারের সকল সদস্যরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই এসব মানসিক সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সন্তান মায়ের সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবন একটি জাতির সুস্থতার প্রতীক স্বরূপ।

     http://www.alokrekha.com

    5 comments:

    1. বাসন্তী গুহJuly 17, 2017 at 5:03 PM

      অনেক অনেক ধন্যবাদ ডাঃ শুভাগতা সেনকে বিস্তারিত ও তথ্যবহুল সন্তান প্রসব পরবর্তীকালীন মাতৃত্বের বিষণ্ণতাকে। এই বিষয়টি এত গুরুত্ব পূর্ণ অথচ আমরা এড়িয়ে যাই । আলকরেখাকে সাধুবাদ জানাই এমন একটি আলকপাত করার জন্য ।

      ReplyDelete
    2. মহাম্মাদ সালেহJuly 17, 2017 at 5:44 PM

      আলকরেখার পড়তে আমারা ভালবাসি তার প্রধান কারন এখানে সব ধরনের বিসয়ের উপর লেখা হয়। আজকের লেখাটা শধু তথ্যবহুল নয়, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এই লেখার মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারলাম।আমি বাবা হতে চলেছি -এই সময়ে এই লেখাটা আমার অনেক উপকার হল। ধন্যবাদ ডাঃ শুভাগতা সেনকে

      ReplyDelete
      Replies
      1. রেহানা সুলতানাJuly 17, 2017 at 6:52 PM

        বাবা হতে যাওয়ার জন্য অভিনন্দন!আপনার মত সব বাবাদের আওভান করবো তারা যেন বাবা হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করেন। তাতে মায়েদের কাজ কিছুটা কমবে।

        Delete
    3. তমা কর্মকারJuly 17, 2017 at 8:02 PM

      অনেক অনেক ধন্যবাদ ডাঃ শুভাগতা সেনকে বিস্তারিত ও তথ্যবহুল সন্তান প্রসব পরবর্তীকালীন মাতৃত্বের বিষণ্ণতা নিয়ে লেখার জন্য। সুস্থ মাতৃত্ব সব নারীর অধিকার। সন্তান ধারণ থেকে প্রসবের পর পর্যন্ত যদি মায়ের সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করা না হয়।তাহলে কখনোই সেই মায়ের কাছে থেকে সুস্থ সবল নবজাতকের আশা করা যায় না।

      ReplyDelete
      Replies
      1. মমতা নাসরিনJuly 17, 2017 at 9:12 PM

        খুব ভাল বলেছেন তমা কর্মকার-সুস্থ মাতৃত্ব সব নারীর অধিকার। যদি মায়ের সুষ্ঠ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন নিশ্চিত করা না হয়।তাহলে কখনোই সুস্থ সবল নবজাতকের আশা করা যায় না। এই চরম সত্যটাকে এই আধুনিক যুগেও গুরুত্ব দেওয়া হয় না ।আলকরেখাকে সাধুবাদ জানাই এমন একটি আলকপাত ও গুরুত্ব করার জন্য ।

        Delete

    অনেক অনেক ধন্যবাদ