সর্বাত্বক সমর্পণ
- সুনিকেত চৌধুরী।
মেহগিনি কৌলীন্যে যাপিত জীবনের
যবনিকা পতনের সংলগ্ন তিথিতে
তীর্থ যাত্রা শুভ -
যথার্থ নয় এই কুষ্ঠি বিচার।
সঠিক নয় এযাবৎ কষ্টি পাথরে
যাচাই করা তাবৎ তাৎপর্য।
আর সেই মতে নির্ধারিত
বিধিবাম এর অংকিত রূপরেখায়
দুই একে দুই
আর দুই দুগুনে চার
সেই সাথে নিপাতনে সিদ্ধ
যত সিদ্ধান্ত অর্পিত হয়েছে এযাবৎ
সবের সারাংশ সাব্যস্ত করে
‘সর্বাত্বক সমর্পণ’ এর সিদ্ধান্ত হয়েছে ঘোষিত!
অতএব, হে মহাজীবন,
ঝেড়ে ফেল সংগ্রহের সমস্ত জগদ্দল
ভারশূন্য ভব্যতায়
সমর্পনের নির্লিপ্ততায়!


লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে 






“সর্বাত্বক সমর্পণ” শিরোনামটি নিজেই কবিতার ভাববীজ। এখানে কেবল আত্মসমর্পণ নয়, বরং অহং, হিসাব, বিধি ও ভার। সবকিছুর সম্পূর্ণ পরিত্যাগের দার্শনিক ঘোষণা নিহিত। বিমূর্ত ভাবকে দৃশ্যমান রূপ দেওয়া হয়েছে । কবিতাটি বিমূর্ত ধারণা (সমর্পণ, বিধি, কষ্টিপাথর, সিদ্ধান্ত) কে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যে পাঠকের সামনে মানসিক দৃশ্যপট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি উচ্চমানের কাব্যিক দক্ষতার পরিচয়। প্রতীক ও রূপকের শক্তিশালী ব্যবহার যা যবনিকা পতন, কষ্টিপাথর, বিধিবামের অংকিত রূপরেখা, জগদ্দল ভার। এসব প্রতীক জীবনের কৃত্রিম কাঠামো ও বিচারপ্রক্রিয়াকে ইঙ্গিত করে, যা কবিতাকে বহুমাত্রিক অর্থ দেয়। খুব ভাল লাগলো।
ReplyDeleteপ্রিয় কবি সুনিকেতের “সর্বাত্বক সমর্পণ” কবিতাটি অনন্য অসাধারণ । এখানে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমালোচনা উঠে এসেছে । জ্যোতিষ, বিধি-বিধান, পূর্বনির্ধারিত হিসাব এসবের ওপর প্রশ্ন তুলে কবি সমাজের যান্ত্রিক বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে নীরব অথচ দৃঢ় প্রতিবাদ গড়ে তুলেছেন। যুক্তিবোধ ও দর্শনের সংমিশ্রণ কবিতাকে অন্য মাত্রা দান করেছে । খুব ভাল লাগলো পড়ে ।ভাল থাকুন !! আরও কবিতা লিখুন যাতে আমরা সমৃদ্ধ হতে পারি ।
ReplyDeleteকবি সুনিকেতের “সর্বাত্বক সমর্পণ” কবিতাটি অনন্য অনবদ্য। এখানে “দুই একে দুই আর দুই দুগুনে চার”এই সরল অংককে ব্যবহার করে কবি দেখিয়েছেন কীভাবে জীবনের জটিল সত্যকে যান্ত্রিক সূত্রে বন্দি করা হয়, যা কবিতাটিকে বুদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা দেয়। ভাষার গাম্ভীর্য ও আভিজাত্য বিদ্যমান । শব্দচয়ন অত্যন্ত সংযত, সংস্কৃতঘেঁষা ও গুরুগম্ভীর—যা কবিতার ভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এক ধরনের ধ্যানমগ্ন আবহ তৈরি করে। খুবই ভাল লাগেছে । শুভ কামনা কবি ।
ReplyDeleteকবি সুনিকেতের “সর্বাত্বক সমর্পণ” কবিতাটি অনন্য খুবই ভাল লাগেছে অনবদ্য। এখানে আত্মসংলাপের গভীরতা অনেক । শেষ স্তবকে “হে মহাজীবন” সম্বোধন আসলে নিজের ভেতরের চেতনার সঙ্গে কথোপকথন এটি কবিতাকে আত্মজিজ্ঞাসার স্তরে উন্নীত করেছে। মুক্তির দর্শন কবিতার আরেকটি দিক।
ReplyDeleteসংগ্রহের ভার ঝেড়ে ফেলা, নির্লিপ্ততায় সমর্পণ । এখানে বৌদ্ধ ও উপনিষদীয় মুক্তিচেতনার ছায়া পাওয়া যায়, যা কবিতাকে আধ্যাত্মিক উচ্চতায় নিয়ে যায়।শেষ পঙ্ক্তিগুলো কোনো দ্বিধা রাখে না। কবিতাটি প্রশ্নে শেষ হয়নি শেষ হয়েছে এক সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে, যা শক্তিশালী সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য। অনেক ভাল থাকবেন !
কবি সুনিকেতের “সর্বাত্বক সমর্পণ” কবিতাটি খুবই ভাল লাগেছে ! পাঠককে ভাবনায় সম্পৃক্ত করার ক্ষমতা অনবদ্য।এই কবিতা পাঠককে কেবল অনুভব করায় না, নিজের জীবন, বিশ্বাস ও হিসাবের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন করতে বাধ্য করে—এটাই বড় কবিতার লক্ষণ।আধুনিক বাংলা কবিতার স্বাতন্ত্র্য। ছন্দের বাঁধনমুক্ত রূপ, দর্শনপ্রধান বক্তব্য ও প্রতীকনির্ভর নির্মাণ সব মিলিয়ে কবিতাটি আধুনিক বাংলা কবিতার একটি পরিণত উদাহরণ।
ReplyDelete