আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও -আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও-যে জন আমার মাঝে জড়িয়ে আছে ঘুমের জালে..আজ এই সকালে ধীরে ধীরে তার কপালে..এই অরুণ আলোর সোনার-কাঠি ছুঁইয়ে দাও..আমার পরান-বীণায় ঘুমিয়ে আছে অমৃতগান-তার নাইকো বাণী নাইকো ছন্দ নাইকো তান..তারে আনন্দের এই জাগরণী ছুঁইয়ে দাও বোধ/জীবনানন্দ দাশ ~ alokrekha আলোক রেখা
1) অতি দ্রুত বুঝতে চেষ্টা করো না, কারণ তাতে অনেক ভুল থেকে যায় -এডওয়ার্ড হল । 2) অবসর জীবন এবং অলসতাময় জীবন দুটো পৃথক জিনিস – বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন । 3) অভাব অভিযোগ এমন একটি সমস্যা যা অন্যের কাছে না বলাই ভালো – পিথাগোরাস । 4) আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও , আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট । 5) আমরা জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহন করি না বলে আমাদের শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না – শিলার । 6) উপার্জনের চেয়ে বিতরণের মাঝেই বেশী সুখ নিহিত – ষ্টিনা। 7) একজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি আরেকজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি কে জাগ্রত করতে পারে না- শেখ সাদী । 8) একজন দরিদ্র লোক যত বেশী নিশ্চিত , একজন রাজা তত বেশী উদ্বিগ্ন – জন মেরিটন। 9) একজন মহান ব্যাক্তির মতত্ব বোঝা যায় ছোট ব্যাক্তিদের সাথে তার ব্যবহার দেখে – কার্লাইন । 10) একজন মহিলা সুন্দর হওয়ার চেয়ে চরিত্রবান হওয়া বেশী প্রয়োজন – লং ফেলো। 11) কাজকে ভালবাসলে কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায় – আলফ্রেড মার্শা
  • Pages

    লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে

    বোধ/জীবনানন্দ দাশ

     






    জীবনানন্দ দাশের  কবিতা/বোধ

    পথে চ’লে পারে –পারাপারে
    উপেক্ষা করিতে চাই তারে;
    মড়ার খুলির মতো ধ’রআছার মারিতে চাই, জীবন্ত মাথার মতো ঘোরে
    তবু সে মাথার চারিপাশে,
    তবু সে চোখের চারিপাশে,
    তবু সে বুকের চারিপাশে;
    আমি চলি, সাথে সথে সেও চ’লে আসে।

    আমি থামি
    সেও থেমে যায়;
    সকল লোকের মাঝে ব’সে
    আমার নিজের মুদ্রাদোষে
    আমি একা হতেছি আলাদা ?
    আমার চোখেই শুধু ধাঁধা ?
    আমার পথেই শুধু বাঁধা ?
    জন্মিয়াছে যারা এই পৃথিবীতে
    সন্তানের মত হ’য়ে –
    সন্তানের জন্ম দিতে-দিতে
    যাহাদের কেটে গেছে অনেক সময়,
    কিংবা আজ সন্তানের জন্ম দিতে হয়
    যাহাদের; কিংবা যারা পৃথিবীর বীজখেতে আসিতেছে চলে
    জন্ম দেবে  - জন্ম দেবে ব’লে;
    তাদের হৃদয় আর মাথার মতন
    আমার হৃদয় না কি ?
    -তবু কেন এমন একাকী ?
    তবু আমি এমন একাকী !
    হাতে তুলে দেখিনি কি লাঙল ?
    বালটিতে টানিনি কি জল ?
    কাস্তে হতে কতোবার যাইনি কি মাঠে ?
    মেছোদের মতো আমি কতো নদী ঘাটে
    ঘুরিয়াছি;
    পুকুরের পানা শ্যাওলা – আঁশটে গায়ের ঘ্রান গায়ে
    গিয়েছে জড়ায়ে ;
    -এই সব স্বাদ ;
    -এ-সব পেয়েছি আমি; বাতাসের মতন অবাধ
    বয়েছে জীবন,
    নক্ষত্রের তলে শুয়ে ঘুমিয়েছে মন
    একদিন;
    এই সব সাধ
    জানিয়াছি একদিন – অবধ – অগাধ;
    চলে গেছি ইহাদের ছেড়ে ;
    ভালোবেসে দেখিয়াছি মেয়েমানুষেরে,
    অবহেলা ক’রে আমি দেখিয়াছি মেয়েমানুষেরে,
    ঘৃনা করে দেখিয়াছি মেয়মানুষেরে ;
    আমারে সে ভালোবাসিয়াছে,
    আসিয়াছে কাছে,
    উপেক্ষা সে করেছে আমারে,
    ঘৃণা করে চলে গেছে – যখন ডেকেছি বারে-বারে
    ভালোবেসে তারে ;
    তবুও সাধনা ছিলো একদিন – এই ভালোবাসা ;
    আমি তার উপেক্ষার ভাষা
    আমি তার ঘৃণার আক্রোশ
    অবহেলা করে গেছি ; যে-নক্ষত্র-নক্ষত্রের দোষ
    আমার প্রমের পথে বার-বার দিয়ে গেছে বাধা
    আমি তা ভুলিয়া গেছি ;
    তবু এই ভালোবাসা- ধুলো আর কাদা ।
    মাথার ভিতরে
    স্বপ্ন নয়-প্রেম নয়-কোন এক বোধ কাজ কর  ।

    2 comments:

    1. প্রেমা বাগচিOctober 9, 2017 at 7:11 PM

      জীবনানন্দের বোধ কবিতা নতুন করে প্রকাশের করার জন্য আলোকরেখাকে অনেক অনেক অভিনন্দন।

      ReplyDelete
    2. ফারহান আহমেদOctober 9, 2017 at 7:16 PM

      সাধারণত : এই কবিতাটা সচরাচর পড়া হয় না। এতো সুন্দর কবিতাটিকে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আলোকরেখাকে অনেক ধন্যবাদ। আলোকরেখা আমাদের এভাবে আলোকিত করুক এই কামনায় করি সর্বদাই।

      ReplyDelete

    অনেক অনেক ধন্যবাদ