alokrekha আলোক রেখা
1) অতি দ্রুত বুঝতে চেষ্টা করো না, কারণ তাতে অনেক ভুল থেকে যায় -এডওয়ার্ড হল । 2) অবসর জীবন এবং অলসতাময় জীবন দুটো পৃথক জিনিস – বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন । 3) অভাব অভিযোগ এমন একটি সমস্যা যা অন্যের কাছে না বলাই ভালো – পিথাগোরাস । 4) আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও , আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট । 5) আমরা জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহন করি না বলে আমাদের শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না – শিলার । 6) উপার্জনের চেয়ে বিতরণের মাঝেই বেশী সুখ নিহিত – ষ্টিনা। 7) একজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি আরেকজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি কে জাগ্রত করতে পারে না- শেখ সাদী । 8) একজন দরিদ্র লোক যত বেশী নিশ্চিত , একজন রাজা তত বেশী উদ্বিগ্ন – জন মেরিটন। 9) একজন মহান ব্যাক্তির মতত্ব বোঝা যায় ছোট ব্যাক্তিদের সাথে তার ব্যবহার দেখে – কার্লাইন । 10) একজন মহিলা সুন্দর হওয়ার চেয়ে চরিত্রবান হওয়া বেশী প্রয়োজন – লং ফেলো। 11) কাজকে ভালবাসলে কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায় – আলফ্রেড মার্শা
  • Pages

    লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে

    অনুর ভিতর পরমাণু ----------- মেহরাব রহমান



    অনুর ভিতর পরমাণু  
    মেহরাব রহমান

    বিকেলের শেষ রোদ
    ঝুঁকে পড়েছে দিগন্তের দিকে;
    ধীরলয়ে ফিরে যাচ্ছে সীমান্ত সীমানায় l
    চলেছে সে পূব থেকে পশ্চিমের অচলায়তনেআমিও যেমন
    এই ভূখণ্ডে কার্তিকের নবান্নের দেশে নাই l গণদেবতার  উৎসব নাই
    হিম হয়ে জমে যাওয়া
    হিমাঙ্কের দেশ উত্তর আমেরিকা ;
    এখানে প্রকৃতি তার
    জীবন পাল্টায় বারেবারে l

    রবীন্দ্রনাথের গল্পে নারীর ক্রমবিকাশ-----------

    রবীন্দ্রনাথের  গল্পে নারীর ক্রমবিকাশ


    রবীন্দ্রসৃষ্টির কল্যাণে বাংলা সাহিত্য পেয়েছে অবিস্মরণীয় সব নারী চরিত্র। উপন্যাস ও বড়গল্পে ‘শেষের কবিতা’র লাবণ্য, ‘ল্যাবরেটরি’র সোহিনী, ‘যোগাযোগে’র কুমু, ‘দৃষ্টিদানে’র কুমু, ‘মালঞ্চ’র সরলা ও নীরজা, ‘দুইবোনে’র শর্মিলা ও ঊর্মিলা, ‘গোরা’র সুচরিতা, ‘নৌকাডুবি’র হেমনলিনী, ‘নষ্টনীড়ে’র চারুলতা, ‘ঘরে-বাইরে’র বিমলা, ‘চোখের বালি’র বিনোদিনীর, তুলনা পুরো বাংলাসাহিত্যেই বিরল। সেই সঙ্গে অবিস্মরণীয় ছোটগল্পের নারীচরিত্ররাও। ‘স্ত্রীর পত্রে’র মৃণাল, ‘সমাপ্তি’র মৃন্ময়ী, ‘দেনাপাওনা’র নিরুপমা, ‘হৈমন্তী’র হৈমন্তী, ‘রাসমণির ছেলে’র রাসমণি, ‘মণিহারা’র মণি, ‘পোস্টমাস্টারে’র রতন, ‘ঘাটের কথা’র কুসুম, ‘সুভা’র সুভাষিণী, ‘খাতা’র ঊমা, ‘শাস্তি’র চন্দরা তাদের চরিত্রের দৃঢ়তায় বাংলা সাহিত্যের পাঠকের স্মৃতিতে নিজস্ব জ্যোতিতে ভাস্বর। বিচিত্র সব নারী চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে রবীন্দ্রনাটকেও। ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী, ‘রাজা ও রাণী’র রাণী , নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’র সুন্দরীপ্রধানা শ্যামা, ‘মায়ার খেলা’র প্রমদা সকলেই অনন্যা।

    আলোকরেখা'র পাঠক সংখ্যা ৮০০০০০ এ পৌঁছানোর এই সুবর্ণ মুহূর্তে


    দিগন্তের সবগুলো তারা গুনতে যদি বসে যাই হঠাৎ করে তাহলে সহসাই যে উপলব্ধিটা হবে সেটা হলো এই যে গুনে শেষ করা যাবেনা আদিগন্ত বিস্তৃত এই আলোকমালা ! আলোকরেখা'র পাঠক সংখ্যা ৮০০০০০ এ পৌঁছানোর এই সুবর্ণ মুহূর্তে আমার অবস্থাটা ঠিক সেই রকম ! আমার মনের গহীনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অগুনতি হৃদয়ের ভালোবাসার যে দোলা এসে লাগছে সে ঢেউ গুনবো কিভাবে ?! আমার গর্বের, আমার ভালোবাসার, আমার অস্তিত্বের মূর্ত প্রতীক আমার মায়ের ভাষায় সত্য-সুন্দরের পূজার নৈবেদ্য যদি হয় এমন একটা কিছু করার প্রচেষ্টার নাম দিয়েছিলাম "আলোকরেখা"! আমার পুজোর সে নৈবেদ্য আজ অগুনতি মানুষের ভালোবাসা ধন্য হয়েছে - এটা আমার পরম পাওয়া ! আমি নাচকে ভালোবাসি সেই ছোটবেলা থেকে - আমি "আলোকরেখা"র এই আট লক্ষ পাঠকধন্য মুহূর্তে উদ্বাহু নেচে প্রণতি জানাই প্রণতি জানাই সবাইকে!  


    সানজিদা রুমি কর্তৃক গ্রথিত http://www.alokrekha.com

    অর্জুনের অর্জন । - সুনিকেত চৌধুরী

    অর্জুনের অর্জন

    - সুনিকেত চৌধুরী

     অনেক বড় অর্জন আজ অর্জুনের অযাচিত

    সহসা জেগে ওঠা অন্তরাত্মার উদ্বেলিত উন্মাদনা

    ছাদে দাঁড়ানো তোমায় দেখে !

    এই তোমাকে ছুঁয়ে বলি

    ছাদে দাঁড়িয়ে আড় চোখে 

    তুমি আমাকেই যে দেখছিলে তা হলপ করে বলতে পারি !

    পাহাড় চূড়ায় ................সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়




     পাহাড় চূড়ায়
    ................সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অনেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।
    ... কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না।
    ... যদি তার দেখা পেতাম,
    দামের জন্য আটকাতো না।
    আমার নিজস্ব একটা নদী আছে,
    সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে।
    কে না জানে, পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশী।
    পাহাড় স্থানু, নদী বহমান।
    তবু আমি নদীর বদলে পাহাড়টাই
    কিনতাম।
    কারণ, আমি ঠকতে চাই।

    কবিতারা জন্ম নেয়, কবিতারা মরে যায় l - সুনিকেত চৌধুরী।

    কবিতারা জন্ম নেয়, কবিতারা মরে  যায়
    - সুনিকেত চৌধুরী। 

    কবিতারা ঘোরে মাথার ভেতর উচ্চকিত ইঙ্গিতে
    বলে, আমাদের করে নাও আপন - রেখোনা আর এমনি করে অন্তঃপুরে। 
    এই করে সারাটা সকাল সারাটা দুপুর আর সারাটা বিকেল গড়িয়ে
    সন্ধ্যা নামে আমার আঙিনায়,
    ভেসে আসে বৃষ্টি ভেজা বেলী ফুলের "প্রিয়া তুমি কই" করা সুবাস
    আমার আবাস তখন পুজোর বেদী
    আর করজোড়ে নতজানু সুনিকেত আকাশের দিকে চায় -
    অস্তিত্বের পরতে পরতে অনুরণিত হয়  " এইতো আমি !"

    শুভাশীষকে চিঠি' .পর্ব ২... ৯ নম্বর চিঠি থেকে..………. মুনা চৌধুরী

    শুভাশীষকে চিঠি' ......………. মুনা চৌধুরী


    'শুভাশীষ কে চিঠি’.... ৯ নম্বর চিঠি থেকে

    শুভ,
    কখনো কখনো কথা না বলে চুপ করে থাকাটাই ভালো লাগে। When silence is your best state of mind, তুমি চুপ হয়েই থেকো।

    আজ তোমায় একটা কথা বলি, তুমি হয়তো জানোনা, আমি অবিনশ্বরকে খুঁজেছি যখন- তোমায় পেয়েছি তখন। আবার অবিনশ্বরকে পেয়েছি তখন, তোমায় খুঁজেছি যখন। এখন তোমার মতো এককালের অবিশ্বাসী-বিশ্বাসী মাথা ঠুকে মরে ঈশ্বর-সন্ধানে আর আমার মতো একজন অন্ধ-বিশ্বাসী, যার কিনা হন্য হয়ে পড়ে থাকার কথা শুধুমাত্র ঈশ্বর-প্রেমে, সে কিনা প্রতিটা প্রার্থনায় খুঁজে ফেরে তোমাকে। এটাকে তুমি কি বলবে? আমি চলে গিয়ে ঘুরিয়ে দিলাম তোমায়, আর তুমি তোমার অন্বেষণ  খুঁজে ফেরালে আমায়। আমি আর এখন রুমির মতো বলিনা, ‘I searched for God & only found myself & searched for myself and found only God’. আমি বলি, ‘I searched for God & only found you. I searched for you & only found God’.

    সম্ভাবনা সমূহ আমার! - সুনিকেত চৌধুরী।

    সম্ভাবনা সমূহ আমার!

    - সুনিকেত চৌধুরী। 



    সদ্যজাত একটা সম্ভাবনার সমাপ্তি সংঘঠিত হলো সম্প্রতি
    বলা নেই কওয়া নেই সকালের ট্রেনটাতে চেপে বসে চলে গেলে তুমি !
    আঁকি-জুকি করা সাদা ন্যাপকিনে "তোমাকে ভালোবাসি" পড়ে রইলো
    আমার নীচু সিলিং কিচেন কাম লিভিং রুমের টেবিলে !
    তুমি আর এসোনা কোনদিন এই পথে, এই ঘরে, এই আঙিনায় !
    তোমার ট্রেন যখন গন্তব্যে পৌঁছাবে
    সূর্য্য যখন উঠবে তোমার সকাল বেলায়
    নিয়ন বাতি জ্বালবো তখন আমার রাত্রির শুরুতে।

    শুভাশীষকে চিঠি' ......………. মুনা চৌধুরী



    শুভাশীষকে চিঠি'                                                                            
    ........………. মুনা চৌধুরী

    আবার লিখছে.
    নিলীশ্বরী লিখে চলছে.
    সংসার, সন্তান, কোর্ট রুম, ক্যাম্পাস, আর্ল গ্রে'র সাথে সাথে লিখে চলছে কথার লিরিক  'শুভাশীষকে চিঠি'.
    আলোর মত, রোদের মত, কথার স্রোতে ভাসছে.
    স্রোতে ভাসছে সাদা রাজহাস.
    ভাসতে দাও .........


    শুভাশীষ,
    I am dancing on the sea. There is no shoreline …… রাজা আলেম এর উপন্যাসের ফাতেমার মতই আজকে আমি। 
    বহুকাল পর অদ্ভূত একটা দিন কেটেছে  আজ।  সকালবেলা দেরী হচ্ছে জেনেও নরম রোদটা গায়ে মেখে ফুরফুরে মেজাজে গাড়িতে উঠলাম. আজ সকালে চেম্বার ছিল না, ক্লাস নেবার ছিল।  আমি কখনই ক্লাস এ দেরী করে যাইনা, আর এ বেপারে বেশ সুনাম আছে আমার।  কিন্তু আজ যে কারণেই হোক কোনো আক্ষেপ ছাড়াই গুন গুন করে গান গাইতে গাইতে দেরী করে ক্লাস্সে ঢুকলাম। ছাত্রেরা ভীষণ ভালবাসে আমায়, আর আমিও ভিষণ ভালবাসি ওদের।  ওদের সাথে আমার বন্ধুত্বটা এমনই যে বয়সের ব্যবধানটা মাথায় আসেনা কখনো। 
    কাল বিকেলে তোমার চিঠি পেয়ে আমার সবকিছু যেন থমকে গেল।  জন্মান্তরের কথা নয়, শুধু ১৯ বছর আগের কথা।  মাত্র ১৯ বছর আমি যেন যুগান্তরের ঘুম ঘুমিয়ে কাল বিকেলে জেগে উঠলাম।  হাজার প্রজাপতি পাখা মেলেছে আমার চারপাশে, পায়ে আমার ঘুঙ্গুর বাজছে, আমি হঠাৎ করে কিশোরী হয়ে গেলাম।  ২০১৬ সালে আমি আবার ১৯৯৭ সালে ঢুকে গেলাম।  আমার ভেতর সেই ১৯৯৭ সালের আমি - fluttering, thrilled and ecstatic.

    আচ্ছা বলত, দান্তে কি ভেবেছিল বিয়াত্রিচের সাথে ওর আবার এক জনমে দেখা হবে?  কিন্তু ওদের তো দেখা হয়েছিল বিয়াত্রিচে যখন ভূত হয়ে স্বর্গে গেল। আর ন হন্যেতে অমিতার সাথে মির্চার ৪৩ বছর পরে দেখা হয়েছিল।  তোমায় নিয়ে আমিও এজাতীয় কিছুই এতকাল ধরে ভেবেছি।  শুভ্র সাদা চুল নিয়ে অথবা ভূত হয়েই তোমার সাথে দেখা হবে আবার।  তুমি হাসছ? এভাবে তুমি হঠাৎ একদিন খোজ নেবে আমার, ভাবিনি কখনো। 
    ভয় পেয় না. আমি ভাঙব না। I will not break down when I have been so brave for so many years. মায়ের জাতটাকে বোঝো? আমরা জানি কিভাবে নিজেদের ধরে রাখতে হয়। 
    অনেক মানুষ থাকে যারা অন্যের জীবনে আলো ফেলে, পথ চিনতে শেখায়, অনেকটা লাইটহাউস এর মত।  তুমিও তাই ছিলে আমার।  তুমি আমায় পৃথিবী চিনতে শিখিয়েছিলে। 
    আমি খুব ভালো আছি.
    তুমি ভেবনা আমায় নিয়ে।  সারা চিঠিতে শুধু আমার কথাই জানতে চাইলে।স্বামী আমার ভালো মানুষ আর সন্তানেরা তো গোলাপের বাগান। এরপর ও অন্ধকার রাতে কেন জানি আকাশের নিচে দাড়িয়ে থাকি, 'আকাশভরা তারার মাঝে আমার তারা কই?'
    তুমি ভালো আছ তো?
    Drenching myself in bittersweet nostalgia, so paralyzingly sad yet so hauntingly beautiful.

    নীলিশ্বরী
    ২২শে জানুয়ারী ২০১৬,
    ধানমন্ডি, ঢাকা


    আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি, বলে দিতে পারো তা আমায়; হয়তো আমার কোনো প্রয়োজন নেই, কেন লেগে থাকি একটা কোণায়।।




    আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি, 
    বলে দিতে পারো তা আমায়;
    হয়তো আমার কোনো প্রয়োজন নেই,
    কেন লেগে থাকি একটা কোণায়।।

    আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি, 
    বলে দিতে পারো তা আমায়;
    হয়তো আমার কোনো প্রয়োজন নেই,
    কেন লেগে থাকি একটা কোণায়।।

    তুমি বলে দিতে পারো তা আমায়,
    চিঠি লিখবো না ঐ ঠিকানায়;
    আমারও তো মন ভাঙে চোখে জল আসে,
    আর অভিমান আমারও তো হয়
    অভিমান আমারও তো হয়।।

    নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় ----- হেলাল হাফিজ



     নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়
    ----- হেলাল হাফিজ

    এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
    এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
    মিছিলের সব হাত
    কন্ঠ
    পা এক নয় ।
    সেখানে সংসারী থাকে, সংসার বিরাগী থাকে,
    কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার ।

    প্রিয় মতিহার -------- কাজী নজরুল ইসলাম----কাজী মোতাহার হোসেন এর কাছে লিখা কাজী নজরুল ইসলাম এর একটি চিঠি।


    প্রিয় মতিহার - কাজী নজরুল ইসলাম

    ১৫, জুলিয়াটোলা স্ট্রীট
    কলিকাতা
    ০৮-০৩-২৮
    সন্ধ্যা
    প্রিয় মতিহার
    পরশু বিকালে এসেছি কলকাতা। ওপরের ঠিকানায় আছি। ওর আগেই আসবার কথা ছিল , অসুখ বেড়ে উঠায় আসতে পারিনি। ২/৪ দিন এখানেই আছি। মনটা কেবলই পালাই পালাই করছে। কোথায় যাই ঠিক করতে পারছিনে। হঠাৎ কোনদিন এক জায়গায় চলে যাবো, অবশ্য দু - দশ দিনের জন্য। যেখানেই যাই, আর কেউ না পাক, তুমি খবর পাবে।
    বন্ধু, তুমি আমার চোখের জলের মতিহার, বাদল রাতের বুকের বন্ধু। যেদিন এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর আর সবাই আমায় ভুলে যাবে , সেদিন অন্ততঃ তোমার বুক বেঁধে উঠবে। তোমার ঐ ছোট্ট ঘরটিতে শুয়ে , যে ঘরে তুমি আমায় প্রিয়ার মত জড়িয়ে শুয়েছিল, অন্ততঃ এইটুকু স্বান্তনা নিয়ে যেতে পারবো , এই কি কম সৌভাগ্য আমার !!!

    "কোথা তুমি " গীতালি চক্রবর্তী




















    "কোথা তুমি "
    গীতালি চক্রবর্তী

    আসমুদ্র হিমাচল মরুময় ভুখন্ড ব্যাপী
    তোমা তরে করেছি প্রদক্ষিণ আমি
    পাইনি তোমায়!
    কোথা তুমি! কোথা আছো তুমি?
    যদি থেকে থাক সমুদ্রের গভীর জলজ অরন্যে
    এবার বাসুকী নয়,করিব মন্থন আমি  প্রেমের রশিতে।
    অমৃতের পাত্র হাতে উঠিবে আবার,
    আমার বাসনা লক্ষী। 
    সে অমৃত পান করি পরে
    হইবে পুনর্জন্ম মম ভালবাসার তরে।
    অমর করিয়া তব রাখিব যতনে
     বক্ষে বাঁধি মোর।

    শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) কবি, সাংবাদিক।............সানজিদা রুমি



    শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)  কবিসাংবাদিক।

                                                                 সানজিদা রুমি     
                                                  

    শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬)  কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। কবির পিতা মোখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা খাতুন। শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
    শামসুর রাহমান ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আই.এ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু তিনি অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি। তবে তিনি ১৯৫৩ সালে বি.এ (পাস কোর্স) পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে বর্তমান রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, হাসান হাফিজুর রহমান, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, সাবের রেজা করিম, তরীকুল আলম, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, বদরুদ্দীন উমর, আবুল মাল আবদুল মুহিত, মোস্তফা কামাল, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সৈয়দ আলী কবির, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী প্রমুখ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল।

    রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা তসলিমা নাসরিনের চিঠি

    রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে লেখা তসলিমা নাসরিনের চিঠি


    প্রিয় রুদ্র,
    প্রযত্নে, আকাশ
    তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুরে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? তুমি এই জগত্সংসার ছেড়ে আকাশে চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো রুদ্র। আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না? তোমার সেই ইন্দিরা রোডের বাড়িতে, আবার সেই নীলক্ষেত, শাহবাগ, পরীবাগ, লালবাগ চষে বেড়াতে? ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিকই হয়, পারো না। অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারারাত না ঘুমিয়ে গল্প করতে করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারাদিন পথে পথে হাটতে হাটতে। কে তোমাকে বাধা দিতো? জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছো। আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন তোমার হাতের মুঠোয় নেই। ওরা তোমাকে ট্রাকে উঠিয়ে মিঠেখালি রেখে এলো, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি।