আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও -আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও-যে জন আমার মাঝে জড়িয়ে আছে ঘুমের জালে..আজ এই সকালে ধীরে ধীরে তার কপালে..এই অরুণ আলোর সোনার-কাঠি ছুঁইয়ে দাও..আমার পরান-বীণায় ঘুমিয়ে আছে অমৃতগান-তার নাইকো বাণী নাইকো ছন্দ নাইকো তান..তারে আনন্দের এই জাগরণী ছুঁইয়ে দাও শক্তি চট্টোপাধ্যায় ~ alokrekha আলোক রেখা
1) অতি দ্রুত বুঝতে চেষ্টা করো না, কারণ তাতে অনেক ভুল থেকে যায় -এডওয়ার্ড হল । 2) অবসর জীবন এবং অলসতাময় জীবন দুটো পৃথক জিনিস – বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন । 3) অভাব অভিযোগ এমন একটি সমস্যা যা অন্যের কাছে না বলাই ভালো – পিথাগোরাস । 4) আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও , আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট । 5) আমরা জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহন করি না বলে আমাদের শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না – শিলার । 6) উপার্জনের চেয়ে বিতরণের মাঝেই বেশী সুখ নিহিত – ষ্টিনা। 7) একজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি আরেকজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি কে জাগ্রত করতে পারে না- শেখ সাদী । 8) একজন দরিদ্র লোক যত বেশী নিশ্চিত , একজন রাজা তত বেশী উদ্বিগ্ন – জন মেরিটন। 9) একজন মহান ব্যাক্তির মতত্ব বোঝা যায় ছোট ব্যাক্তিদের সাথে তার ব্যবহার দেখে – কার্লাইন । 10) একজন মহিলা সুন্দর হওয়ার চেয়ে চরিত্রবান হওয়া বেশী প্রয়োজন – লং ফেলো। 11) কাজকে ভালবাসলে কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায় – আলফ্রেড মার্শা
  • Pages

    লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে

    শক্তি চট্টোপাধ্যায়




    শক্তি চট্টোপাধ্যায় (২৬. ১১. ১৯৩৩ ~ ২৩. ০৩. ১৯৯৫)

    শক্তি চট্টোপাধ্যায়জনপ্রিয় কবি ছিলেন। প্রথম জীবনে গল্প রচণা করতেন স্ফুলিঙ্গ সমাদ্দার ছদ্মনামে।
    কবিতাপত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পাদনায়কৃত্তিবাসপত্রিকাকে ঘিরে
    তাঁর খ্যাতি লাভ।

    তাঁর প্রথম পর্বের কবিতায় নিয়ম শাসিত জীবনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, নিয়ম ভাঙ্গা জীবন যাপনের গৌরবায়ণ
    দেখতে পাওয়া যায়। সেই সময় কবিকে হাংরি জেনারেশন বা হিংরিয়ালিস্ট আন্দোলন-এর নেতৃত্বে দেখা যায়।

    পরবর্তি পর্বে এই উত্তালতা স্তিমিত হয়ে আসে। বন্ধুত্ব, নারী, মানব সংসর্গ, জীবনের আনন্দ ব্যর্থতা বোধ
    নিয়ে তাঁর কবিতা। প্রকৃতির প্রতি তীব্র আকর্শন, নারীর ভালবাসা প্রভৃতি তাঁর কাব্য জগতের প্রধান উপকরণ।
    তাঁর নিজস্ব ছন্দস্পন্দ এবং বলিষ্ঠ ভাষা তাঁকে বিশিষ্টতা দিয়েছে।

    ১৯৭৫ সালে তিনি ভূষিত হন আনন্দ পুরস্কারে এবং ১৯৮৪ তে পান সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার। তাঁর আকস্মিক
    অকাল প্রয়াণের সময় তিনি বিশ্বভারতীর অতিথি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    হে প্রেম হে নৈঃশব্দ১৯৫৭, হেমন্তের অরণ্যে আমি পোস্টম্যান১৯৬৯, যেতে পারি কিন্তু কেন যাব১৯৮২,
    তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তাঁর কবিতা অজশ্র এবং শতস্ফূর্ত।

    যদি পারো দুঃখ দাওশক্তি চট্টোপাধ্যায়

    যদি পারো দুঃখ দাও, আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি
    দাও দুঃখ, দুঃখ দাওআমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি।
    তুমি সুখ নিয়ে থাকো, সুখে থাকো, দরজা হাট-খোলা।

    আকাশের নিচে, ঘরে , শিমূলের সোহাগে স্তম্ভিত
    আমি পদপ্রান্ত থেকে সেই স্তম্ভ নিরীক্ষণ করি।
    যেভাবে বৃক্ষের নিচে দাঁড়ায় পথিক, সেইভাবে
    একা একা দেখি সুন্দরের সংশ্লিষ্ট পতাকা।

    ভালো হোক মন্দ হোক যায় মেঘ আকাশে ছড়িয়ে
    আমাকে জড়িয়ে ধরে হাওয়া তার বন্ধনে বাহুর।
    বুকে রাখে, মুখে রাখে – ‘না রাখিও সুখে প্রিয়সখি!
    যদি পারো দুঃখ দাও আমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি
    দাও দুঃখ, দুঃখ দাওআমি দুঃখ পেতে ভালোবাসি।
    ভালোবাসি ফুলে কাঁটা, ভালোবাসি, ভুলে মনস্তাপ
    ভালোবাসি শুধু কূলে বসে থাকা পাথরের মতো
    নদীতে অনেক জল, ভালোবাসা, নম্রনীল জল
    ভয় করে।



    http://www.alokrekha.com

    6 comments:

    1. আসিফ আলীMay 5, 2018 at 4:41 PM

      কবিতার সাথে সাথে কবির জীবনী খুব ভাল লাগলো আলকরেখার এই নতুন প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই।

      ReplyDelete
    2. শফিকুর রহমানMay 5, 2018 at 5:19 PM

      শক্তি চট্টোপাধ্যায় এর উপর লেখাটা থেকে অনেক কিছু জানলাম। আলোক রেখাকে অনেক ধন্যবাদ

      ReplyDelete
    3. কোরবান আলীMay 5, 2018 at 5:28 PM

      শক্তি চট্টোপাধ্যায় এর উপর লেখাটা পড়ে উনি কত বড়ো একজন কবি। সানজিদা রুমিকে অনেক সাধুবাদ। আশা করি সামনে এমন আরো লেখা আলোক রেখায় পাবো

      ReplyDelete
    4. রিজওয়ানা কবিরMay 5, 2018 at 5:54 PM

      "আকাশের নিচে, ঘরে , শিমূলের সোহাগে স্তম্ভিত
      আমি পদপ্রান্ত থেকে সেই স্তম্ভ নিরীক্ষণ করি।
      যেভাবে বৃক্ষের নিচে দাঁড়ায় পথিক, সেইভাবে
      একা একা দেখি ঐ সুন্দরের সংশ্লিষ্ট পতাকা।"
      শক্তি চট্টোপাধ্যায় এর কবিতার এই লাইন গুলো
      কত কথা মনে করিয়ে দেয়।
      এমন অনেক শক্তিমান কবি আছে আমাদের উপমহাদেশে
      যাদের আমরা চিনি না। আলোক রেখার সুবাদে শক্তি চট্টোপাধ্যায় কে চিনলাম ,জানলাম ,তার কবিতা পড়লাম। অনেক ধন্নবাদ আলোক রেখাকে

      ReplyDelete
    5. সোহরাব হোসাইনMay 6, 2018 at 3:42 PM

      শক্তি চট্টোপাধ্যায় এর লেখাটি কঠিন ভাষায় হলেও চমত্কার একটি কবিতা ,কবি ও কবিতা আমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্নো আলোক রেখাকে ধন্যবাদ

      ReplyDelete
    6. শিহাব হোসাইন ফরায়জী , প্রভাষক বাংলা বিভাগ ,রাজশাহী সরকারী কলেজMay 6, 2018 at 4:14 PM

      কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় একজন বিদ্রোহী কিন্তু নৈরাশজনক জনক কবি। "যদি পারো দুঃখ দাও" কবিতাটি অত্তন্ত উচ্চ মানের কিন্তু নৈরাশজনক। মন খারাপ করিয়ে দেয় কিন্তু তাও সাধুবাদ জানাতে হয় কারণ trajedy ও তো সাহিত্তে অনেক বড়ো স্থান পেয়েছে। শেক্সপীয়ারের কথাই ধরুন না কেন , যাকে বলা হয় king of trajedy

      ReplyDelete

    অনেক অনেক ধন্যবাদ