আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও -আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও-যে জন আমার মাঝে জড়িয়ে আছে ঘুমের জালে..আজ এই সকালে ধীরে ধীরে তার কপালে..এই অরুণ আলোর সোনার-কাঠি ছুঁইয়ে দাও..আমার পরান-বীণায় ঘুমিয়ে আছে অমৃতগান-তার নাইকো বাণী নাইকো ছন্দ নাইকো তান..তারে আনন্দের এই জাগরণী ছুঁইয়ে দাও আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই-------- হোসনে আরা জেমী ~ alokrekha আলোক রেখা
1) অতি দ্রুত বুঝতে চেষ্টা করো না, কারণ তাতে অনেক ভুল থেকে যায় -এডওয়ার্ড হল । 2) অবসর জীবন এবং অলসতাময় জীবন দুটো পৃথক জিনিস – বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন । 3) অভাব অভিযোগ এমন একটি সমস্যা যা অন্যের কাছে না বলাই ভালো – পিথাগোরাস । 4) আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও , আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট । 5) আমরা জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহন করি না বলে আমাদের শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না – শিলার । 6) উপার্জনের চেয়ে বিতরণের মাঝেই বেশী সুখ নিহিত – ষ্টিনা। 7) একজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি আরেকজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি কে জাগ্রত করতে পারে না- শেখ সাদী । 8) একজন দরিদ্র লোক যত বেশী নিশ্চিত , একজন রাজা তত বেশী উদ্বিগ্ন – জন মেরিটন। 9) একজন মহান ব্যাক্তির মতত্ব বোঝা যায় ছোট ব্যাক্তিদের সাথে তার ব্যবহার দেখে – কার্লাইন । 10) একজন মহিলা সুন্দর হওয়ার চেয়ে চরিত্রবান হওয়া বেশী প্রয়োজন – লং ফেলো। 11) কাজকে ভালবাসলে কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায় – আলফ্রেড মার্শা
  • Pages

    লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে

    আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই-------- হোসনে আরা জেমী

     


    আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই
    হোসনে আরা জেমী
    আমার শরীর তোমাদের মানচিত্র নয়
    যেখানে ইচ্ছে মতো
    সীমানা এঁকে দেবে।
    আমার হাঁটার উপর
    জারি করা প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা
    আমি আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছি বহু আগে।
    তোমরা বলেছিলে
    মেয়েরা নরম হবে,
    মাথা নিচু করে কথা বলবে,
    রাতে একা বেরোবে না,
    রাগলে চুপ থাকবে।
    আমি সেদিনই বুঝেছিলাম
    তোমরা নারী না,
    একটা বাধ্য দাসী খুঁজছিলে।
    আমার ঠোঁটের প্রতিবাদ
    তোমাদের সভ্যতায় অশ্লীল,
    কিন্তু রাস্তাভরা পুরুষের লালসা
    তোমাদের চোখে স্বাভাবিক!
    বাহবা দিই তোমাদের বিচারবোধকে।
    যখন আমাকে “বেশ্যা” বলো
    কারণ আমি নিজের মতো বাঁচি,
    তখন তোমাদের অভিধানের দিকে তাকিয়ে
    আমার করুণা হয়।
    কারণ নারীর স্বাধীনতা
    যে সমাজ গালি ভেবে নেয়,
    সে সমাজ আসলে
    নিজের পশুত্ব লুকাতে শেখেনি এখনো।
    শুনে রাখো
    আমি কারো সম্পত্তি নই,
    কারো বিছানার বৈধতা নই,
    কারো বংশরক্ষার যন্ত্র নই।
    আমি মানুষ।
    রক্তমাংসের, স্বপ্নভরা,
    ক্ষুধা-রাগ-অভিমান নিয়ে বেঁচে থাকা
    পূর্ণ একজন মানুষ।
    আজ আমি কথা বলছি,
    কাল হাজার নারী বলবে।
    তারপর একদিন
    তোমাদের তৈরি এই পুরুষতন্ত্র
    নিজের লজ্জার ভারেই
    ধসে পড়বে।
    __________________________
    জেমী/টরন্টো / মে ২৪, ২০২৬
    http://www.alokrekha.com

    10 comments:

    1. নিমা রহমানMay 30, 2026 at 6:57 PM

      কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতা প্রতিবাদের শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে। এই কবিতাটি একজন পাঠকের কাছে কেবল নারীর ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদের ভাষা। কবি শরীরকে “রাষ্ট্র” বা “মানচিত্র” হতে অস্বীকার করে নারীসত্তার স্বাধীন অস্তিত্ব ঘোষণা করেছেন। পাঠকের মনে এটি সাহস ও আত্মমর্যাদার বার্তা পৌঁছে দেয়। খুবই মান সম্মত। খুব সুন্দর ভাল লাগলো পড়ে । শুভ কামনা কবি ।

      ReplyDelete
    2. জাহিদুর রহমান দুলালMay 30, 2026 at 7:00 PM

      কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতা নারীবাদী চেতনার প্রতিফলন। একজন সচেতন পাঠকের দৃষ্টিতে কবিতাটি স্পষ্টভাবে নারীবাদী অবস্থান বহন করে। এখানে নারীকে নরম, নত বা নিয়ন্ত্রিত সত্তা হিসেবে দেখার সামাজিক প্রবণতাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। কবিতাটি নারীকে সামাজিক পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে পূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করে।পড়ে খুব ভাল লাগলো । শুভ কামনা ।

      ReplyDelete
    3. আব্দুল্লাহ আল মুহিতMay 30, 2026 at 7:27 PM

      কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতা পড়ে খুব ভাল লাগলো । ভাষার তীব্রতা ও ব্যঙ্গের ব্যবহার প্রশংসনীয় । কবিতার ভাষা কোমল নয়, বরং ধারালো ও সরাসরি। “বাহবা দিই তোমাদের বিচারবোধকে” এই ধরনের পঙক্তিতে ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের দ্বিমুখী নৈতিকতাকে উন্মোচন করা হয়েছে। পাঠকের কাছে এই ভাষা আঘাতও করতে পারে, আবার ভাবতেও বাধ্য করতে পারে। শুভ কামনা কবি ।

      ReplyDelete
    4. প্রমা মৃত্তিকা সেনMay 30, 2026 at 7:31 PM

      কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতা পড়ে খুব ভাল লাগলো । অভিনন্দন এমন একটি জোরালো কবিতা দেবার জন্য । এখানে নারীবাদের কথা উঠে এসেছে অনন্য ভাবে । অনবদ্য কবিতা। আলকরেখাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ।

      ReplyDelete
    5. সাইদুল হক খোকনMay 30, 2026 at 7:34 PM

      কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতা সামাজিক বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি । একজন বড় পাঠক বুঝতে পারবেন, কবিতাটি কেবল কল্পনার নির্মাণ নয়; এটি সমাজে নারীর চলাফেরা, পোশাক, কণ্ঠ ও স্বাধীনতার উপর আরোপিত বাস্তব নিয়ন্ত্রণের প্রতিফলন। “রাতে একা বেরোবে না” বা “রাগলে চুপ থাকবে” এসব নির্দেশ বহু নারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি। কবিতা পড়ে খুব ভাল লাগলো । অভিনন্দন !!!!!

      ReplyDelete
    6. শান্তা আহমেদMay 30, 2026 at 7:42 PM

      কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতা ব্যক্তি থেকে সমষ্টির যাত্রা মনে হচ্ছে । কবিতার শুরুতে “আমি” থাকলেও শেষদিকে তা “হাজার নারী”-তে রূপ নেয়। একজন মনোযোগী পাঠকের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যক্তিগত প্রতিবাদ এখানে সমষ্টিগত আন্দোলনের সম্ভাবনায় পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তন কবিতাকে আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য দিয়েছে। কবিতাটি পড়ে খুব ভাল লাগলো । অভিনন্দন ও শুভ কামনা কবি এমন প্রতিবাদী কবিতা উপহার দেওয়ার জন্য ।

      ReplyDelete
    7. সাজেদ চৌধুরীMay 30, 2026 at 7:47 PM

      যত নারীবাদী কবিতা আছে তার মধ্যে কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতাটি অনবদ্য । মানবিক পরিচয়ের পুনরুদ্ধার এখানে অনন্য ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।“আমি মানুষ”এই ঘোষণা কবিতার কেন্দ্রীয় শক্তি। পাঠকের চোখে এটি শুধু নারীর অধিকারের কথা নয়, বরং মানুষের মৌলিক মর্যাদা ও স্বাধীন সত্তার দাবি। নারীকে সম্পত্তি, বৈধতা বা বংশরক্ষার যন্ত্র হিসেবে দেখার বিপরীতে কবি মানবিক পরিচয়কে সামনে এনেছেন। শুভ কামনা কবি ।

      ReplyDelete
    8. মিতালী মুখার্জিMay 30, 2026 at 7:50 PM

      কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতাটি অনবদ্য । আবেগ ও ক্রোধের সংমিশ্রণ , কবিতাটিতে ক্ষোভ, অপমানবোধ, প্রতিবাদ এবং আত্মসম্মান একসঙ্গে কাজ করেছে। বড় পাঠকের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কবিতার আবেগ কেবল কান্না বা অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা প্রতিরোধের শক্তিতে রূপ নিয়েছে। এই আবেগ কবিতাকে প্রাণবন্ত করেছে। শুভ কামনা কবি ।

      ReplyDelete
    9. ডঃ অজিত রায়May 30, 2026 at 7:55 PM

      কবি হোসনে আরা জেমীর "আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই" কবিতাটি অনবদ্য ও অনন্য ।বিতর্ক ও চিন্তার জায়গা তৈরি করা কবিতা। এই কবিতা সব পাঠকের কাছে একইভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে এটাই এর শক্তি। কেউ একে তীব্র প্রতিবাদের সাহসী ভাষা বলবেন, কেউ হয়তো ভাষার আক্রমণাত্মক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন। কিন্তু বড় পাঠকের দৃষ্টিতে সফল কবিতা সেইটিই, যা পাঠককে অস্বস্তি, প্রশ্ন ও আত্মসমালোচনার মুখোমুখি দাঁড় করায় এই কবিতা তা করতে সক্ষম। শুভ কামনা কবি । ভাল থাকুন আরও সুন্দর লিখুন ।

      ReplyDelete
    10. অনন্ত হীরাMay 30, 2026 at 7:59 PM

      “আমার শরীরে রাষ্ট্র নেই” কবিতায় কবি নারীর স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা তুলে ধরেছেন। কবি ঘোষণা করেছেন যে নারীর শরীর বা জীবন কারও নিয়ন্ত্রণের জায়গা নয় এবং সমাজের তৈরি নানা বিধিনিষেধ তিনি মেনে নেন না। সমাজ নারীদের নরম, বাধ্য ও নীরব থাকতে শেখাতে চাইলেও কবি সেই ধারণার বিরোধিতা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, নারীর প্রতিবাদকে সমাজ অশ্লীল বা অপরাধ হিসেবে দেখে, অথচ পুরুষের অন্যায় আচরণকে স্বাভাবিক মনে করে। কবিতায় নারীকে কারও সম্পত্তি বা কেবল সামাজিক ভূমিকার বাহক নয়, বরং স্বপ্ন, অনুভূতি ও অধিকারসম্পন্ন পূর্ণ মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কবি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে নারীদের সম্মিলিত কণ্ঠ একদিন পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে এবং পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।

      ReplyDelete

    অনেক অনেক ধন্যবাদ