একটা কাফন পরেইতো ...
মেহরাব রহমান
প্রিয়তমা ভুলে গেলে / আমাকে/ আমার কবিতা ভুবন/ আমার ক্ষুধা/ আদিম রোদ্দুর/ জ্বালাধরা / উন্মাদ প্রেম / অরণ্য চুম্বন/ এতসব তোমরা ভুলে যাও / তুমিও ভুলে গেলে / ভেতরের ক্রন্দন-যন্ত্রণা / একবারও থমকে দাঁড়ালেন ? / ভাবলে না? / এ পবিত্র সংসার রসাতলে যাবে / আমাকে ঘোলাটে অন্ধকারে ফেলে / পরকিয়া / প্রেম লালোসায় মত্তো হলে / নষ্ট যুবকের / ভ্রস্ট হাত ধরে / কোথায় পালালে ?
এ যাপিত জীবনতো
সূর্যোদয়
সূর্যাস্ত
দিনান্তে …
কফিন বাক্স …
গনগনে চিতার আগুন …
একটা কাফন পরেইতো পরিব্রাজকের
এই পথযাত্রা রথযাত্রার শেষ গন্তব্য …
অবদমন / স্বাধীনতা হরণ / বন্দী জীবন থেকে / তিলতিল করে গণমানুষের গণজাগরণ / মরন ঘুম ভেঙে জেগে উঠে / হঠাৎ মিছিল / হঠাৎ আগুন / নতুন সূর্যোদয় / নবজাতক মানচিত্র / নতুন একটি দেশ / নির্মাণ করতে করতে / প্রশাসকের লোভ জাগে / ক্ষমতার / অর্থের / গণতন্ত্র গণতন্ত্র / করতে করতে /গণতন্ত্রের টুটি টিপে ধরে /জালিয়াতি করে / টাকার পাহাড় গড়ে / রাজা কিংবা রাষ্ট্র নায়ক / এবং তার পারিষদ / ষড়যন্ত্র করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে / দেশ বিকিয়ে দেয় / সেই নবীন দেশের রাজা কিংবা রাষ্ট্রপ্রধান/ ক্রমে ক্রমে হয়ে উঠে স্বৈরশাসক /এবং তাঁর পোষ্য গোলাম কিংবা পা চাটার দল / বিলাসিতায় গা ভাসায় / হিংসা / রীরংশা / গুম / হত্যা / অবিচার /হয়ে উঠে নিত্য নৈমিত্তিক খেলা / বেলা অবেলা /যেন এই রাজ্য রাজার পৈত্রিক সম্পত্তি/ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত …
কেন ? কেন ?কেন এতসব ?
এ যাপিত জীবনতো
সূর্যোদয়
সূর্যাস্ত
দিনান্তে …
কফিন বাক্স
গনগনে চিতার আগুন
একটা কাফন পরেইতো পরিব্রাজকের
এই পথযাত্রা রথযাত্রার শেষ গন্তব্য …
ধর্মান্ধ … মৌলবাদি … উগ্রপন্থী মৌলবী যখন / মৌ-লোভী হয় / ফাঁদ পাতে / বিশ্ব জোড়া হাতে হাত রেখে চলে / দুষ্টুগ্রহ সংখ্যালঘু / প্রবল ক্ষমতাধর / ধ্বংস করছে দেশ / কুরেকুরে খাচ্ছে সভ্যতা / ধর্মের মুখোশ এঁটে / উগ্র পন্থীরা / ধর্ষণ কোরে আগুনে পুড়িয়ে মারে যুবুতীকে / কিশোরীকে / বিচার হয়না / এদের হাত খুব লম্বা / সংযোগ রাখে / প্রভাবশালী রাজনৈতিক / অনৈতিক নেতাদের সঙ্গে / এমনকি রাষ্ট্রনায়কের সঙ্গে / নাহলে রাষ্ট্রপ্রধানরা কী করে চালাবেন তাদের রঙ্গশালা / তাঁদের চাই রঙ্গালয় / চাই / দূর্দান্ত শয়তান / যাত্রার /দক্ষ নট-নটিনি ….
কেন ? কেন ?কেন এতসব ?
এ যাপিত জীবনতো
সূর্যোদয়
সূর্যাস্ত
দিনান্তে …
কফিন বাক্স
গনগনে চিতার আগুন
একটা কাফন পরেইতো পরিব্রাজকের
এই পথযাত্রা রথযাত্রার শেষ গন্তব্য …
ঐ তিনি হেঁটে যান / রাত গভীর / অন্ধ-অন্ধকার / ঠিক তখন / রাষ্ট্র-প্রধান / রাজাধিরাজ / প্রবল ক্ষমতা /ধারণ করেন হাতের মুঠোয় / সুতীক্ষ্ণ কৌশলে / রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা / শৃঙ্খলে কোমরে ঝুলান / নিশ্চুপ রাত্রি /ঝণাৎ ঝন / ঝণাৎ ঝন / বিকলাঙ্গ বীভৎস / শব্দ নিয়ে / মিলিটারি কায়দায় হেঁটে যান / লেফট রাইট লেফট /
লেফট রাইট লেফট / লেফট রাইট লেফট …
কী ক্রুদ্ধ? কী ক্ষুব্ধ? কী হিংস্র ? যেনো আফ্রিকার গভীর অরণ্যের অভুক্ত সিংহ / তিনি হেঁটে যান / লেফট রাইট লেফট /
লেফট রাইট লেফট / লেফট রাইট লেফট
তাণ্ডব ঝড় নিয়ে / তার বিরুদ্ধচারিতার প্রতিশোধ তিনি নিজেই নেবেন / কারারুদ্ধ ফাঁসির আসামীকে তিনি নিজেই খুন করতে চান / কারারক্ষী কারা প্রকোষ্ঠ খুলে দিল / ডাক পড়লো জল্লাদের / রাষ্ট্রের মহানায়ক পা দিয়ে / সাজাপ্রাপ্ত আসামীর / গলা চেপে ধরলেন / জল্লাদের কাজ জল্লাদ করলো / ফিনকি দিয়ে রক্ত … / রক্তজোয়ার …
কারাগারের নীরবতা ভেঙে / শেষ গোঙানির শব্দ বাতাসে ভেসে গেলো …
এই তিনি / এই তাঁহারা বিশ্বময় তলে তলে দুশাসনের পরাকাষ্ঠ /
এরাই / তরুণ কবি লোরকা / ৩৫ বসন্তের সীমানায় …/ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াবার জন্যে কারারুদ্ধ / হঠাৎ /রাতের অজানা প্রহরে / রুদ্ধদ্বার খুলে যায় / বিকট শব্দে / লোরকা প্রানপন প্রাণের তাগিদে ছুটছে / আহা / তাঁর প্ৰিয় নদীর কাছে / পৌঁছে গেছে / নদীর ওপারে / আর যাওয়া হলোনা / মুক্তির স্বাদ আর নেয়া হলোনা / আতোতায়ীর বুলেট / কেড়ে নিলো প্রাণ / এইভাবেই নির্দ্বিধায় আজও ফ্যাসিস্টরা / কেড়ে নেয় / বিশ্বময় / কতো কতো প্রফুল্ল জীবন
কেন ? কেন ?কেন এতসব ?
এ যাপিত জীবনতো
সূর্যোদয়
সূর্যাস্ত
দিনান্তে …
কফিন বাক্স
গনগনে চিতার আগুন
একটা কাফন পরেইতো পরিব্রাজকের
এই পথযাত্রা রথযাত্রার শেষ গন্তব্য …
এত আয়োজন
খরস্রোতা নদীর এতো জোয়ার ভাটা
এতো আনন্দ বেদনা
এত বিদ্রোহ শেষে বুঝি
সাদা-কাপড় , কফিন-বাক্স কিংবা চিতার-গনগনে আগুনই জিতে যায়
আর আমরা
একেকটা ধুলিকোনার ধূসর দীর্ঘশ্বাস হয়ে যাই
কেন ? কেন ?কেন এতসব ?
এ যাপিত জীবনতো
সূর্যোদয়
সূর্যাস্ত
দিনান্তে …
কফিন বাক্স
গনগনে চিতার আগুন
একটা কাফন পরেইতো পরিব্রাজকের
এই পথযাত্রা রথযাত্রার শেষ গন্তব্য … http://www.alokrekha.com




লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে 







“একটা কাফন পরেইতো...” মূলত মৃত্যু-দর্শন, প্রেমহারা বেদনা, সামাজিক অবক্ষয়, ধর্মীয় ভণ্ডামি এবং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সমন্বয়ে রচিত একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক-দার্শনিক কবিতা। পাঠক হিসেবে কবিতাটি আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়—ক্ষমতা, লোভ, হিংসা কিংবা অহংকারের শেষ পরিণতি একই; মানুষের শেষ ঠিকানা একটি কাফন, একটি কফিন, অথবা চিতার আগুন। খুব ভাল লাগলো ।অভিনন্দর কবি মেহরাব রহমান । ভাল থাকবেন ।
ReplyDelete“একটা কাফন পরেইতো...” খুব ভাল লাগলো । কবি মেহরাব রহমান এখানে ভাষার আবেগময়তা ও নাটকীয় চিত্রকল্প অঙ্কন করেছেন তা প্রশংসনীয় । কবিতার ভাষা অত্যন্ত আবেগঘন, উচ্চকণ্ঠ এবং নাটকীয়। “লেফট রাইট লেফট”, “ফিনকি দিয়ে রক্ত”, “গনগনে চিতার আগুন” ইত্যাদি চিত্রকল্প পাঠকের চোখে জীবন্ত দৃশ্য তৈরি করে। তবে কোথাও কোথাও অতিরিক্ত আবেগ ও দীর্ঘ বর্ণনা কবিতার সংহতি কিছুটা শিথিল করেছে। তবুও এর শক্তিশালী চিত্রধর্মিতা পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে।। ভাল থাকবেন ।
ReplyDeleteকবি মেহরাব রহমান “একটা কাফন পরেইতো...” কবিতায় যে বাস্তবতা, ইতিহাস, রাজনীতি ও মানবিক ট্র্যাজেডির সম্মিলন তুলে ধরেছেন তা পড়ে খুব ভাল লাগলো । কবিতায় ব্যক্তিগত প্রেম, গণআন্দোলন, রাষ্ট্রগঠন, স্বৈরতন্ত্র, হত্যা, কারাবন্দিত্ব এবং লোরকার মতো বিপ্লবী কবির উল্লেখ সবকিছু মিলিয়ে একটি বৃহৎ মানবিক ও ঐতিহাসিক ক্যানভাস তৈরি হয়েছে। ফলে কবিতাটি শুধু একটি অনুভূতির নয়, বরং একটি সময় ও সভ্যতার দলিল হয়ে উঠেছে।
ReplyDeleteকবি মেহরাব রহমান “একটা কাফন পরেইতো...” দীর্ঘ কবিতাটি ভাল লিখেছেন ।পুনরুক্তির সফল ব্যবহার হয়েছে এখানে। “কেন? কেন? কেন এতসব?” এবং “এ যাপিত জীবনতো...” অংশগুলোর পুনরাবৃত্তি কবিতার আবেগ ও বক্তব্যকে আরও জোরালো করেছে। এই পুনরুক্তি পাঠকের মনে এক ধরনের প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করে এবং কবিতার কেন্দ্রীয় প্রশ্নকে বারবার সামনে নিয়ে আসে। শুভেচ্ছা কবি ।
ReplyDeleteকবি মেহরাব রহমানের সব কবিতাই আমার ভাল লাগে। ব্যক্তিগতভাবে আমি ওনার ভক্ত পাঠক। এই “একটা কাফন পরেইতো...” দীর্ঘ কবিতাটিতে ধর্মীয় ভণ্ডামি ও মৌলবাদের সমালোচনা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে। ধর্মের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সহিংসতা, শোষণ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কবি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। পাঠক হিসেবে এই অংশ মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে এবং ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক সাহসী উচ্চারণ বলে মনে হয়। । অনেক অনেক শুভেচ্ছা কবি । আলকরেখার একনিষ্ঠ পাঠক হিসাবে আমি গর্বিত অনুভব করি । এমন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন প্রকাশ মাধ্যম আমি পাইনি । আলকরেখাকে অভিনন্দন ।তার সফলতা কামনা করি ।
ReplyDeleteকবি মেহরাব রহমানের এই “একটা কাফন পরেইতো ” কবিতায় ক্ষমতা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ উঠে এসেছে। কবি রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং স্বৈরশাসনের নির্মম চিত্র তুলে ধরেছেন। ক্ষমতালোভী শাসকের প্রতিচ্ছবি পাঠকের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। ফলে কবিতাটি প্রতিবাদী সাহিত্যের শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।খুব ভাল লাগলো ।শুভ কামনা কবি ।
ReplyDeleteকবি মেহরাব রহমান “একটা কাফন পরেইতো ” কবিতায় ব্যক্তিগত বেদনা থেকে সামাজিক প্রতিবাদে উত্তরণ ঘটিয়েছেন । কবিতার শুরুতে প্রেমহারা এক মানুষের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা ফুটে উঠলেও ধীরে ধীরে তা সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবসভ্যতার বৃহত্তর সংকটের দিকে বিস্তৃত হয়েছে। এই রূপান্তর কবিতাকে শুধু প্রেমের কবিতা নয়, বরং একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যে পরিণত করেছে।
ReplyDeleteকবি মেহরাব রহমান “একটা কাফন পরেইতো ” কবিতায় মৃত্যুচেতনা ও জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের গভীর উপলব্ধি বোধ করেছেন । কবিতার মূল সুর হলো মানুষের সমস্ত অহংকার, প্রেম, ক্ষমতা, লোভ ও সংগ্রামের শেষ পরিণতি মৃত্যু। “একটা কাফন পরেইতো পরিব্রাজকের এই পথযাত্রা” পঙক্তিটি বারবার ফিরে এসে পাঠককে মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের সকল অর্জন শেষ পর্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই দার্শনিক উপলব্ধি কবিতাটিকে গভীরতা দিয়েছে। খুবই ভাল লাগলো পড়ে। ধন্যবাদ আলকরেখা !!!
ReplyDeleteকবি মেহরাব রহমানের “একটা কাফন পরেইতো ” কবিতাটির প্রধান দুর্বলতা হলো এর অতিরিক্ত বিস্তৃতি ও বক্তব্যের আধিক্য। কবি প্রেম, রাজনীতি, স্বৈরশাসন, ধর্মীয় মৌলবাদ, সামাজিক অবক্ষয় এবং মৃত্যুচেতনাকে একসঙ্গে তুলে ধরতে গিয়ে অনেক সময় মূল ভাবনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। ফলে কবিতার কাব্যিক প্রবাহ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া একই প্রশ্ন ও বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি কবিতার আবেগকে জোরালো করলেও কিছু ক্ষেত্রে একঘেয়েমির অনুভূতি তৈরি করে। কবিতার ভাষায় প্রতিবাদ ও ক্ষোভের শক্তি থাকলেও কয়েকটি অংশে তা কাব্যিক প্রকাশের চেয়ে সরাসরি বক্তব্যে পরিণত হয়েছে। ফলে পাঠক হিসেবে মনে হয়, কিছুটা সংযম ও সম্পাদনার মাধ্যমে কবিতাটি আরও সংহত, গভীর এবং শিল্পসম্মত হতে পারত।
ReplyDelete