চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা !
- সুনিকেত চৌধুরী।
মস্তিষ্কের কোষে কোষে
শব্দেরা ভীড় জমায়
উড়ে উড়ে আসে ওরা ওপর থেকে।
জড়ো হয় এক নিকষ নিটোল অঙ্গনে
অতঃপর সারিবদ্ধ হয় সুসংবদ্ধ বিন্যাসে
অস্থিরতা বাড়ে, বাড়ে চাপ;
দাবী একটাই :
চাই কবিতার পর্যাপ্ত বরাদ্দ,
চাই নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা !




লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে 






কবিতাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো আগেও আলকরেখায় প্রকাশিত হয়েছে আজ আবার প্রকাশিত হয়েছে নতুন করে তাও মনে হচ্ছে নতুন করে আবিষ্কার করছি। কবিতাকে এখানে শুধু সৃষ্টির বিষয় হিসেবে না দেখে এক ধরনের অপরিহার্য মানসিক চাহিদা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। “চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা”এই বক্তব্যটি প্রথমে খানিক রসিক মনে হলেও ধীরে ধীরে তা কবির অন্তর্গত সৃষ্টিতাড়নার গভীর প্রকাশ হয়ে ওঠে। পাঠক হিসেবে মনে হয়, কবিতা এখানে বিলাসিতা নয়, বরং বেঁচে থাকার এক প্রয়োজনীয় উপাদান। আবারো পড়ে খুব ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন প্রিয় কবি।
ReplyDeleteপ্রিয় কবি- সুনিকেত চৌধুরীর চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা ! পড়ে খুব ভালো লাগলো।“মস্তিষ্কের কোষে কোষে / শব্দেরা ভীড় জমায়”এই সূচনাটি খুবই শক্তিশালী। কবিতার জন্মকে কোনো অলৌকিক বা বিমূর্ত জায়গায় না রেখে মস্তিষ্কের কোষের সঙ্গে যুক্ত করায় সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি জীবন্ত ও স্পর্শযোগ্য হয়েছে। তবে এই বৈজ্ঞানিক ইমেজের সঙ্গে পরবর্তী “ওপর থেকে উড়ে উড়ে আসে” ভাবনাটির একটি চমৎকার বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। ভালো থাকবেন প্রিয় কবি।
ReplyDeleteপ্রিয় কবি- সুনিকেত চৌধুরীর চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা ! পড়ে খুব ভালো লাগলো কবি সুনিকেত চৌধুরীর কবিতা আমার খুব প্রিয় । সে নতুনই হোক বা পুরাতন হোক। স্বল্প কথায় জীবনের নির্যাস খুজে পাই তাঁর কবিতায় । শব্দ যেন কবির কাছে অতিথি নয়, বরং একসঙ্গে এসে জমায়েত হওয়া অস্থির প্রাণী। পাঠক হিসেবে এই জায়গাটিতে নিজেরও অনেকটা পরিচিত অভিজ্ঞতা খুঁজে পাই । আমাদের অনেক কথা মনে আসে, কিন্তু সেগুলোকে কবিতায় বিন্যস্ত করা সহজ হয় না প্রিয় কবি সুনিকেতের মত।অনেক অনেক ভালো থাকবেন প্রিয় কবি। শুভেচ্ছা নিরন্তর।
ReplyDeleteআমার প্রানের প্রিয় কবি সুনিকেত চৌধুরীর "চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা ! " অনন্য সুন্দর এক কবিতা । আমি তাঁর লেখা পড়ার জন্য দিনে কতবার যে আলকরেখায় আসি তার শেষ নেই । সল্প কথায় জীবনের বর্ণনায় কবি সুনিকেত পারঙ্গম । কবিতাটি আমার আগেও পড়া কিন্তু আজ নতুন করে আবিষ্কার করলাম । এই কবিতা আমার মনে আশা জাগায় যে নিয়মিত কবিতার সরবরাহ পাব আর কবি ও এই কবিতা পাঠকের কাছেও কবিতার গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করায়। শুধু কবিই নয়, পাঠকও হয়তো চায় সেই ‘নিয়মিত সরবরাহ’। অনেক খুশি হলাম ।অনেক অনেক ভালবাসা কবি ।আবার শীঘ্রই নতুন কবিতা পাবার আশায় রইলাম ।অনেক অনেক ভালবাসা ।
ReplyDeleteপ্রিয় কবি- সুনিকেত চৌধুরীর চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা ! পড়ে খুব ভালো লাগলো কবি সুনিকেত চৌধুরীর কবিতা আমার খুব প্রিয় । “জড়ো হয় এক নিকষ নিটোল অঙ্গনে / অতঃপর সারিবদ্ধ হয় সুসংবদ্ধ বিন্যাসে”এই অংশে বিশৃঙ্খলা থেকে শৃঙ্খলায় যাওয়ার যে প্রক্রিয়াটি দেখানো হয়েছে, সেটিই কবিতার নির্মাণপ্রক্রিয়ার একটি সুন্দর রূপক। তবে “নিকষ নিটোল”, “সারিবদ্ধ”, “সুসংবদ্ধ” পরপর কয়েকটি ভারী বিশেষণ ব্যবহারের কারণে অংশটি খানিকটা বেশি অলংকারময় হয়ে উঠেছে বলে মনে হতে পারে। সামান্য সংযমে এর স্বাভাবিক সৌন্দর্য আরও বাড়তে পারে।।এ ব্যপারে কবি আরও একটু সচেতন হবেন আশা করি। অনেক অনেক ভালো থাকবেন প্রিয় কবি। শুভেচ্ছা নিরন্তর।
ReplyDeleteপ্রিয় কবি- সুনিকেত চৌধুরীর চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা ! পড়ে খুব ভালো লাগলো কবি সুনিকেত চৌধুরীর কবিতা আমার খুব প্রিয় । কি এক অমোঘ নির্দেশে! এই পঙ্ক্তিটি কবিতায় একটি রহস্যময় মাত্রা যোগ করেছে। শব্দেরা কেন আসে, কীভাবে তারা নিজেরাই বিন্যস্ত হয়ে যায় । সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর প্রায়ই অজানা। সেই অজ্ঞাত শক্তিকেই “অমোঘ নির্দেশ” বলা হয়েছে। পাঠক হিসেবে এই অনির্বচনীয়তার জায়গাটি বেশ উপভোগ্য লেগেছে। দ্বিতীয় স্তবকে এসে কবিতার ভঙ্গি হঠাৎ আরও তীক্ষ্ণ ও রসাত্মক হয়েছে “অস্থিরতা বাড়ে, বাড়ে চাপ;- দাবী একটাই।” এখানে কবির সৃষ্টিশীল অস্থিরতাকে যেন কোনো নাগরিক আন্দোলন বা প্রশাসনিক দাবির ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। এই কবিতা বনাম সরবরাহব্যবস্থার অপ্রত্যাশিত তুলনাটিই কবিতাটিকে আলাদা স্বর দিয়েছে।
ReplyDeleteপ্রিয় কবি- সুনিকেত চৌধুরীর চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা !নতুন করে পড়ে খুব ভালো লাগলো। কবি সুনিকেত চৌধুরীর কবিতা আমার খুব প্রিয় । যদিও তার দর্শন পাইনি । আলকরেখার কবিদের ছবি পাই । কিন্তু প্রিয় কবির দেখা মিলল না । যাই হোক “চাই কবিতার পর্যাপ্ত বরাদ্দ”এই পঙ্ক্তিটি আমার কাছে কবিতার অন্যতম সার্থক জায়গা। “বরাদ্দ” শব্দটি সাধারণত অর্থ, খাদ্য, সম্পদ বা সরকারি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত; সেটিকে কবিতার সঙ্গে যুক্ত করে কবি সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজনকে একেবারে দৈনন্দিন বাস্তবতার মাটিতে নামিয়ে এনেছেন। এখানে বুদ্ধিদীপ্ত রসবোধও আছে।
ReplyDelete
ReplyDeleteপ্রিয় কবি- সুনিকেত চৌধুরীর চাই কবিতার নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা !নতুন করে পড়ে খুব ভালো লাগলো। কবি সুনিকেত চৌধুরীর কবিতা আমার খুব প্রিয় ।
শেষ পঙ্ক্তিতে “চাই নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা!”শিরোনামের সঙ্গে এমনভাবে মিলে যায় যে কবিতাটি একটি পূর্ণ বৃত্ত সম্পন্ন করে। শুরুতে যে দাবি উত্থাপিত হয়েছিল, শেষে সেটিই আরও জোরালো হয়ে ফিরে এসেছে। তবে পাঠক হিসেবে মনে হয়, শেষের আগে যদি আরও একটি অপ্রত্যাশিত চিত্রকল্প বা সামান্য মোচড় থাকত, তাহলে সমাপ্তিটি হয়তো আরও স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারত। ভাল থাকুন !!! আরও সুন্দর সুন্দর কবিতায় আমাদের ঋদ্ধ করুন ।
কবিতাটির আকার ছোট হলেও এর ভেতরে কবিতা-সৃষ্টির একটি সম্পূর্ণ মানসিক দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে । শব্দের আগমন , জমায়েত , বিন্যাস , অস্থিরতা , দাবি সরবরাহের আকাঙ্ক্ষা। এই ধারাবাহিকতা কবিতাটিকে ছন্দময় একটি অভ্যন্তরীণ গতি দিয়েছে। পাঠক হিসেবে মনে হয়েছে, কবি খুব অল্প কথায় নিজের “কবিতা-ক্ষুধা”কে প্রকাশ করতে চেয়েছেন। সব মিলিয়ে কবিতাটি আমার কাছে সৃষ্টিশীল মানুষের অন্তর্গত তাড়না, শব্দের প্রতি নির্ভরতা এবং কবিতা লেখার অদম্য আকাঙ্ক্ষার একটি রসিক অথচ গভীর প্রকাশ। এর সবচেয়ে বড় শক্তি গম্ভীর একটি বিষয়কে “বরাদ্দ” ও “সরবরাহ”-এর মতো দৈনন্দিন শব্দ দিয়ে বলা। আরেকটু শব্দসংযম এবং শেষাংশে সামান্য নতুন মাত্রা যোগ হলে কবিতাটির অভিঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবু এর স্বতন্ত্র স্বর এবং বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনাই পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখে।
ReplyDelete