শুভ নববর্ষ ২০২৬—হোক দায়িত্বশীল রাষ্ট্র, মানবিক সমাজ ও সচেতন মানুষের বছর।
২০২৬ সাল এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের জীবনের দরজায়।
ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি আরেকটি সংখ্যা মাত্র হলেও মানুষের মনে এর অর্থ অনেক গভীর।
প্রতিটি নতুন বছর আসলে একটি প্রশ্ন নিয়ে আসে—আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, আর কোন দিকে যেতে চাই। ২০২৬ সেই প্রশ্নগুলোকে আরও
স্পষ্টভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরছে।
পেছনে ফেলে আসা বছরগুলো আমাদের খুব সহজ ছিল না। অনিশ্চয়তা, দ্রুত বদলে যাওয়া পৃথিবী, প্রযুক্তির তীব্র অগ্রগতি, সামাজিক সম্পর্কের ভাঙন—সব মিলিয়ে মানুষ ক্রমেই একা হয়ে পড়েছে ভিড়ের মধ্যেই। ২০২৬ তাই কেবল নতুন সময় নয়, এটি মানুষের মানসিকতা ও মূল্যবোধের এক বড় পরীক্ষার বছর।
আজকের পৃথিবীতে আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি
সংযুক্ত, অথচ গভীরভাবে বিচ্ছিন্ন। এক ক্লিকেই খবর আসে, ছবি আসে,
মানুষ আসে—কিন্তু অনুভূতির
দূরত্ব কমে না। ২০২৬ আমাদের সামনে সেই প্রশ্নই রাখে—আমরা কি কেবল দ্রুত হতে চাই, নাকি মানবিকও হতে চাই?
নতুন বছর মানে নতুন আশা—এ কথা আমরা প্রতি বছরই বলি।
কিন্তু ২০২৬ আমাদের শেখাতে পারে,
আশা শুধু ভবিষ্যতের ওপর
ছেড়ে দিলে চলে না; আশা তৈরি করতে হয় বর্তমানের সিদ্ধান্ত দিয়ে।
সমাজে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়ের চর্চা—এসব ছাড়া কোনো নতুন বছরই প্রকৃত অর্থে
নতুন হয় না।
এই বছর রাজনীতি,
অর্থনীতি, পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই মানুষের দায়িত্ব আরও বড়। জলবায়ু
পরিবর্তনের বাস্তবতা, যুদ্ধ ও সংকটের দীর্ঘ ছায়া, বৈষম্যের বিস্তার—এসবের মাঝেই ২০২৬ দাঁড়িয়ে আছে। তাই এই
বছর শুধু উৎসবের নয়, সচেতনতারও। প্রশ্ন করার সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মনোবল—এসবই নতুন বছরের
প্রকৃত চাওয়া।
তরুণদের জন্য ২০২৬ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের
তরুণরা শুধু ভবিষ্যতের স্বপ্নদ্রষ্টা নয়,
বর্তমানের নির্মাতা।
প্রযুক্তি তাদের হাতে শক্তি দিয়েছে,
কিন্তু সেই শক্তিকে মানবিক
পথে ব্যবহার করাই বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ যেন এমন একটি বছর হয়, যেখানে সাফল্যের সংজ্ঞা শুধু অর্থ বা খ্যাতিতে সীমাবদ্ধ
না থাকে, বরং দায়িত্ব ও মূল্যবোধেও বিস্তৃত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনেও ২০২৬ আমাদের থামতে শেখাতে পারে। একটু
কম দৌড়ানো, একটু বেশি শোনা, একটু গভীরভাবে বোঝা—এই ছোট ছোট পরিবর্তনই বড় হয়ে উঠতে
পারে। নতুন বছরে বড় প্রতিজ্ঞার চেয়ে ছোট অভ্যাস বদলানোই হয়তো সবচেয়ে বাস্তব
বিপ্লব।
২০২৬ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সময় নিজে থেকে ভালো বা খারাপ
হয় না; মানুষই তাকে অর্থ দেয়। আমরা যদি এই বছরে আরও
সংবেদনশীল হই, আরও সৎ হই, আরও
মানবিক হই—তবেই ২০২৬ সত্যিকার অর্থে একটি নতুন বছর হয়ে উঠবে।
২০২৬ সাল কেবল একটি নতুন বছরের সূচনা নয়; এটি একটি সময়ের সাক্ষ্য, একটি
রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য আত্মপর্যালোচনার মুহূর্ত। ক্যালেন্ডারের পাতা বদলালেও
ইতিহাসের বোঝা হালকা হয় না। নতুন বছর আসে প্রশ্ন নিয়ে—আমরা কোন সমাজ গড়ে তুলছি, কোন রাজনীতিকে স্বাভাবিক করে নিচ্ছি, আর মানুষ হিসেবে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। পেছনের বছরগুলো
বিশ্বজুড়ে আমাদের দেখিয়েছে—রাজনীতি আর সমাজ আলাদা কোনো বাস্তবতা নয়। রাষ্ট্রীয়
সিদ্ধান্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। দ্রব্যমূল্যের
ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, গণতান্ত্রিক চর্চার সীমাবদ্ধতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ—এসবই নতুন বছর ২০২৬-এর
দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা বাস্তবতা। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নটি
হলো—রাষ্ট্র কি সত্যিই নাগরিকের কথা শুনছে?
ক্ষমতা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভাষা আমরা বহু শুনেছি, কিন্তু মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণের প্রশ্ন আজও অনিশ্চিত। নির্বাচন, সংসদ,
আইন—সবকিছু থাকলেই
গণতন্ত্র পূর্ণ হয় না। গণতন্ত্র মানে প্রশ্ন করার সুযোগ, ভিন্নমতকে সহ্য করার মানসিকতা, আর দুর্বল মানুষের পাশে রাষ্ট্রের দাঁড়ানো। ২০২৬ এই
জায়গায় আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। ভয়ের রাজনীতি নয়, আস্থার রাজনীতিই হতে পারে সময়ের দাবি সামাজিকভাবে আমরা
এক অদ্ভুত সময় পার করছি। একদিকে প্রযুক্তি মানুষকে যুক্ত করছে, অন্যদিকে মতাদর্শ,
শ্রেণি ও বিশ্বাসের বিভাজন
আরও তীব্র হচ্ছে। সহনশীলতা কমছে,
ভিন্ন মতকে শত্রু ভাবার
প্রবণতা বাড়ছে। ২০২৬ আমাদের সামনে প্রশ্ন রাখে—আমরা কি এমন এক সমাজ চাই, যেখানে মানুষ পরিচয়ের কারণে বিচারিত হবে? নাকি এমন একটি সমাজ, যেখানে
মানবিকতা হবে সবচেয়ে বড় পরিচয়?
ধর্ম, ভাষা,
লিঙ্গ বা শ্রেণি—কোনো
কিছুকেই ঘৃণার অস্ত্র বানানো হলে সমাজ দুর্বল হয়, রাষ্ট্রও
দুর্বল হয়। উন্নয়নের গল্প আমরা অনেক শুনেছি। বড় প্রকল্প, উঁচু ভবন,
পরিসংখ্যান—সবই আছে।
কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে—এই উন্নয়নের সুফল কারা পাচ্ছে? শ্রমজীবী মানুষ,
মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কি সত্যিই স্বস্তি পাচ্ছে? ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান বাড়ছে, জীবনের ব্যয় বাড়ছে,
অথচ মানুষের আয় বাড়ছে না।
এই বাস্তবতায় ২০২৬ শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনার নয়, অর্থনৈতিক
ন্যায়েরও বছর হওয়া দরকার। ন্যায্য মজুরি,
সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের সুযোগ—এসব ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না।
২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় শক্তি তরুণরা। কিন্তু এই তরুণ সমাজ
আজ দ্বিধাগ্রস্ত—একদিকে স্বপ্ন,
অন্যদিকে অনিশ্চয়তা।
শিক্ষা শেষ করেও চাকরি নেই,
মত প্রকাশ করলে ভয়, রাজনীতিতে অংশ নিলে সন্দেহের চোখ। রাষ্ট্র যদি তরুণদের
কেবল নিয়ন্ত্রণের চোখে দেখে,
তাহলে ভবিষ্যৎ দুর্বল হয়।
২০২৬ হতে পারে সেই বছর,
যখন তরুণদের কণ্ঠস্বরকে
গুরুত্ব দেওয়া হবে, তাদের সৃজনশীলতাকে ভয় নয়, শক্তি হিসেবে দেখা হবে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে নারী
নিরাপত্তা, সমঅধিকার, প্রান্তিক
জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ—এসব প্রশ্ন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। আইন আছে, নীতি আছে,
কিন্তু বাস্তবতায় নারীর
প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য এখনো বড় বাস্তবতা। নতুন বছর মানে এই
জায়গাগুলোতে শুধু আশ্বাস নয়,
কার্যকর পরিবর্তন। নতুন
বছরকে আমরা প্রায়ই আশার মোড়কে দেখি। কিন্তু ২০২৬ আমাদের শেখাতে পারে—আশা তখনই
অর্থবহ, যখন তার সঙ্গে দায়িত্ব যুক্ত হয়। নাগরিক
হিসেবে আমাদের প্রশ্ন করার দায়িত্ব আছে,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে
দাঁড়ানোর দায়িত্ব আছে, আবার সহনশীল থাকার দায়িত্বও আছে।
রাষ্ট্র একা বদলায় না, সমাজ
একা বদলায় না—মানুষ বদলালেই পরিবর্তন আসে। ২০২৬ তাই শুধু নতুন সময় নয়, নতুন চেতনার আহ্বান।
এই বছর যদি আমরা ভয়ের বদলে সংলাপ বেছে নিই, বিভাজনের বদলে সংহতি বেছে নিই, ক্ষমতার বদলে মানবিকতাকে গুরুত্ব দিই—তাহলেই ২০২৬
ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়,
ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে
নেবে।
শুভ নববর্ষ ২০২৬—হোক দায়িত্বশীল রাষ্ট্র, মানবিক সমাজ ও সচেতন মানুষের বছর।




লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে 







এই লেখাটি পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, এটি কেবল নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তা নয়—বরং আমাদের সময়ের একটি দর্পণ। আমরা প্রায়ই নতুন বছরকে আশার মোড়কে মুড়ে ফেলি, কিন্তু এই লেখা দেখিয়েছে যে আশার পাশাপাশি আত্মসমালোচনাও জরুরি। রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তির ভূমিকা—সবকিছুকে এক সুতোয় বেঁধে লেখক যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শুভ নববর্ষ ।
ReplyDeleteশুভ নববর্ষ । আজকের পৃথিবীতে আমরা প্রযুক্তিগতভাবে যত সংযুক্ত, মানসিকভাবে ততটাই বিচ্ছিন্ন—এই সত্যটি লেখাটি খুব শক্তভাবে তুলে ধরেছে। এক ক্লিকের যুগে মানুষের একাকীত্ব যে কত গভীর হতে পারে, তা পাঠক হিসেবে নিজের জীবনেই খুঁজে পাই। ২০২৬-কে মানবিক হওয়ার আহ্বান হিসেবে দেখানোর ভাবনাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
ReplyDeleteশুভ নববর্ষ । ইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা তোমাকে । এই লেখাটি ২০২৬ সালকে শুধু নতুন ক্যালেন্ডার বছরের সূচনা হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তির জন্য একটি গভীর আত্মপর্যালোচনার সময় হিসেবে উপস্থাপন করেছ। আধুনিক পৃথিবীতে প্রযুক্তিগত সংযোগ বাড়লেও মানবিক বিচ্ছিন্নতা, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক সংকট তীব্র হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক বৈষম্য, গণতান্ত্রিক চর্চার সংকোচন এবং মতপ্রকাশের সীমাবদ্ধতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।লেখাটি তরুণদের সম্ভাবনা ও সংকট, নারীর নিরাপত্তা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, উন্নয়নের ন্যায্যতা এবং সহনশীল সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছ। লেখকের মূল বক্তব্য হলো—আশা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সঙ্গে দায়িত্ব, সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ যুক্ত হয়। ২০২৬ তাই শুধু উৎসবের নয়, বরং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র, মানবিক সমাজ এবং সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার আহ্বান। খুব ভাল হয়েছে । ভাল থেকো।
ReplyDeleteশুভ নববর্ষ । ইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। খুব সময়োপযোগী লেখা। নতুন বছরের শুভেচ্ছার আড়ালে লেখাটি আমাদের বাস্তব সংকটগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।লেখাটি পড়তে পড়তে মনে হয়েছে—এটা শুধু মতামত নয়, বরং নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রতি একটি নৈতিক আহ্বান। প্রযুক্তি ও মানবিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি খুব গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা আজকের সমাজের বড় সত্য। খুব ভাল লাগলো । অনেক শুভ কামনা ।
ReplyDeleteশুভ নববর্ষ । ইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। তরুণদের ভূমিকা নিয়ে অংশটি বিশেষভাবে শক্তিশালী। ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানের নির্মাতা এই দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতন্ত্র নিয়ে যে প্রশ্নগুলো তোলা হয়েছে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। উন্নয়ন বনাম ন্যায়ের আলোচনা লেখাটিকে আরও বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করেছে। খুব ভাল লাগলো । অনেক শুভ কামনা ।
ReplyDeleteনারী নিরাপত্তা ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে অংশগুলো আরও বিস্তৃত আলোচনার দাবি রাখে।ভালো লাগলো যে বিষয়গুলো উপেক্ষিত হয়নি। লেখাটি কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, বরং মানুষের পক্ষে।এই জায়গাটাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি। ভাষা সংযত কিন্তু বার্তা তীব্র।এই ভারসাম্য লেখাটিকে প্রভাবশালী করেছে। ২০২৬ যেন সত্যিই এই লেখার চেতনায় এগোয়—এটাই একজন পাঠক হিসেবে আমার প্রত্যাশা।খুব ভাল লাগলো । অনেক শুভ কামনা ।
ReplyDeleteইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। খুব ভাল লাগলো লেখাটা পড়ে। অনেক শুভ কামনা ।
ইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। খুব ভাল লাগলো লেখাটা পড়ে । এখানে রাজনীতি নিয়ে লেখাটির অংশ বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এখানে কোনো দলীয় স্লোগান নেই, আছে নাগরিকের প্রশ্ন। রাষ্ট্র কি সত্যিই নাগরিকের কথা শুনছে—এই প্রশ্নটি শুধু একটি বছরের নয়, আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন। গণতন্ত্রকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরা লেখাটির বড় শক্তি।উন্নয়ন ও অর্থনীতির আলোচনা পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, লেখাটি পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে মানুষের জীবনের কথা বলেছে। বড় প্রকল্প বা উন্নয়নের গল্পের আড়ালে শ্রমজীবী মানুষ, মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যে বাস্তবতা—তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ২০২৬-কে অর্থনৈতিক ন্যায়ের বছর হিসেবে দেখার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক।অনেক শুভ কামনা
ReplyDeleteইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। খুব ভাল লাগলো লেখাটা পড়ে । এখানে তরুণদের নিয়ে লেখা অংশটি গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তরুণদের শুধু ভবিষ্যতের আশা হিসেবে না দেখে বর্তমানের শক্তি হিসেবে দেখার আহ্বান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা শেষ করেও অনিশ্চয়তা, ভয় ও সন্দেহের মধ্যে থাকা তরুণ সমাজের বাস্তবতা লেখাটি সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছে। নারী নিরাপত্তা ও সমঅধিকার প্রসঙ্গে লেখাটি মনে করিয়ে দেয়—আইন থাকলেই পরিবর্তন আসে না। বাস্তবতায় নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য যে এখনো কতটা গভীর, তা নতুন বছরে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবার দাবি রাখে। এই অংশটি লেখাটিকে আরও মানবিক ও সংবেদনশীল করেছে।অনেক শুভ কামনা
ReplyDeleteইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। খুব ভাল লাগলো লেখাটা পড়ে । এখানে সামাজিক বিভাজন ও সহনশীলতার সংকট নিয়ে লেখাটির বক্তব্য খুব সময়োপযোগী। ভিন্ন মত বা পরিচয়কে শত্রু ভাবার প্রবণতা যে একটি সমাজকে কতটা দুর্বল করে দেয়, তা লেখাটি স্পষ্ট করেছে। মানবিকতাকে সবচেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে দেখার আহ্বান নতুন বছরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বার্তা।এই লেখার ভাষা খুব শান্ত, কিন্তু তার ভেতরের বার্তা গভীর ও তীক্ষ্ণ। কোথাও চিৎকার নেই, তবু প্রতিটি অনুচ্ছেদে প্রশ্ন আছে, দায় আছে। একজন পাঠক হিসেবে মনে হয়েছে, লেখাটি আমাকে শুধু ভাবতে নয়, নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করতেও বাধ্য করছে।অনেক শুভ কামনা ।ভাল থাকবেন ।
ReplyDeleteইংরেজি নববর্ষের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। খুব ভাল লাগলো লেখাটা পড়ে । এখানে নতুন বছরে বড় বড় প্রতিজ্ঞার বদলে ছোট ছোট অভ্যাস বদলানোর যে কথা বলা হয়েছে, তা খুব বাস্তব ও জীবনঘনিষ্ঠ। একটু কম দৌড়ানো, একটু বেশি শোনা।এই সাধারণ কথার মধ্যেই বড় সামাজিক পরিবর্তনের বীজ লুকিয়ে আছে বলে মনে হয়েছে। সবশেষে বলতে হয়, এই লেখাটি ২০২৬-কে কেবল ক্যালেন্ডারের একটি সংখ্যা হতে দেয়নি। এটি নতুন বছরকে দায়িত্ব, সংলাপ ও মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত করেছে। যদি আমরা সত্যিই এই লেখার চেতনা ধারণ করতে পারি, তবে ২০২৬ শুধু একটি বছর নয়।একটি নতুন পথচলার সূচনা হতে পারে।অনেক শুভ কামনা ।ভাল থাকবেন ।
ReplyDelete