- সুনিকেত চৌধুরী
দুর্বিনীত দুরাশায় আজন্ম কাটিয়ে সুলতা
চোখ মেলে চাইলো আরেকবার এই পড়ন্ত বিকেলের
শীত শীত উঠোনে ! শুনেছিলো দীদার কাছে,
যতদিন শ্বাস ততদিন নাকি আশ, যদি হয় সমর্পন
নিরাকার নির্বিকার নির্ভানা নিত্যদিন খেলা করে
এক অস্তিত্বহীন সময়ের চত্বরে ! যাওয়া নেই কোনোখানে
তাড়া নেই তাই ! এক চিলতে রোদের মতো
নিষ্পাপ হাসির ঝলক বিলিয়ে সুলতা
অপেক্ষা করেনা আর কোনো অনাহূতের !
http://www.alokrekha.com




লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে 






সুনিকেত চৌধুরীর অনাহূতের জন্যে অপেক্ষা ! - এই কবিতাটি পড়ে মনে হয়েছে যেন ধীরে ধীরে ঝরে পড়া বিকেলের আলো দেখছি। শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত মার্জিত, ভাবনা গভীর এবং আবহ নির্মাণ অনবদ্য। কবি খুব নিঃশব্দে এমন এক সত্য বলে গেছেন, যা প্রত্যেক মানুষের জীবনের সঙ্গে কোথাও না কোথাও মিলে যায়। সব প্রতীক্ষার শেষ প্রাপ্তিতে নয়, অনেক সময় মুক্তিতে। এই কবিতার রেশ দীর্ঘদিন মনে থেকে যাবে। খুব ভাল থাকবেন কবি।
ReplyDeleteকবি সুনিকেত চৌধুরীর অনাহূতের জন্যে অপেক্ষা অনন্য একখানি কবিতা! সুনিকেত চৌধুরী–এর এই কবিতাটি যেন নিঃশব্দে মানুষের অন্তর্জগতের বহুদিনের ক্লান্ত প্রতীক্ষাকে স্পর্শ করে যায়। “অনাহূতের জন্যে অপেক্ষা” শুধুই কারও আগমনের প্রতীক্ষা নয়, বরং জীবনের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা, মায়া, সমর্পণ ও শেষপর্যন্ত আত্মমুক্তির এক গভীর দার্শনিক বোধ। “শীত শীত উঠোনে” কিংবা “এক চিলতে রোদের মতো নিষ্পাপ হাসি” এই চিত্রকল্পগুলো এতটাই জীবন্ত যে পাঠক নিজের অজান্তেই সুলতার নিঃসঙ্গ উঠোনে গিয়ে দাঁড়ায়। কবিতাটির ভাষা যেমন মৃদু, তেমনি তার অন্তর্লীন বেদনা অসীম গভীর। খুব ভাল লাগলো পড়ে।
ReplyDeleteকবি সুনিকেত চৌধুরীর অনাহূতের জন্যে অপেক্ষা পড়ে খুব ভাল লাগলো!!!অনন্য একখানি কবিতা!বহুদিন প্রতিক্ষার পর সুনিকেত চৌধুরীর কবিতা পেলাম । এই কবিতার সবচেয়ে বড় শক্তি এর নীরবতা। শব্দের ভেতরে কোনো উচ্চকিত নাটক নেই, অথচ প্রতিটি পঙ্ক্তি যেন দীর্ঘ জীবনের অব্যক্ত ক্লান্তি বহন করছে। সুলতার চরিত্রটি এখানে কেবল একজন নারী নয়; সে যেন প্রতিটি মানুষের প্রতীক, যে একসময় বুঝে যায় সব অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না। “অপেক্ষা করেনা আর কোনো অনাহূতের” লাইনটি এক অদ্ভুত আত্মমুক্তির অনুভূতি এনে দেয়। কবি অত্যন্ত শিল্পিতভাবে বেদনা ও বোধকে একসূত্রে গেঁথেছেন। শুভ কামনা রইল।
ReplyDelete