আলোকের এই ঝর্নাধারায় ধুইয়ে দাও -আপনাকে এই লুকিয়ে-রাখা ধুলার ঢাকা ধুইয়ে দাও-যে জন আমার মাঝে জড়িয়ে আছে ঘুমের জালে..আজ এই সকালে ধীরে ধীরে তার কপালে..এই অরুণ আলোর সোনার-কাঠি ছুঁইয়ে দাও..আমার পরান-বীণায় ঘুমিয়ে আছে অমৃতগান-তার নাইকো বাণী নাইকো ছন্দ নাইকো তান..তারে আনন্দের এই জাগরণী ছুঁইয়ে দাও মঞ্চ হারালো তার প্রিয় সারথি ও অভিভাবক আতাউর রহমানকে ~~~ সানজিদা রুমি ~ alokrekha আলোক রেখা
1) অতি দ্রুত বুঝতে চেষ্টা করো না, কারণ তাতে অনেক ভুল থেকে যায় -এডওয়ার্ড হল । 2) অবসর জীবন এবং অলসতাময় জীবন দুটো পৃথক জিনিস – বেনজামিন ফ্রাঙ্কলিন । 3) অভাব অভিযোগ এমন একটি সমস্যা যা অন্যের কাছে না বলাই ভালো – পিথাগোরাস । 4) আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও , আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দেব- নেপোলিয়ন বোনাপার্ট । 5) আমরা জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহন করি না বলে আমাদের শিক্ষা পরিপূর্ণ হয় না – শিলার । 6) উপার্জনের চেয়ে বিতরণের মাঝেই বেশী সুখ নিহিত – ষ্টিনা। 7) একজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি আরেকজন ঘুমন্ত ব্যাক্তি কে জাগ্রত করতে পারে না- শেখ সাদী । 8) একজন দরিদ্র লোক যত বেশী নিশ্চিত , একজন রাজা তত বেশী উদ্বিগ্ন – জন মেরিটন। 9) একজন মহান ব্যাক্তির মতত্ব বোঝা যায় ছোট ব্যাক্তিদের সাথে তার ব্যবহার দেখে – কার্লাইন । 10) একজন মহিলা সুন্দর হওয়ার চেয়ে চরিত্রবান হওয়া বেশী প্রয়োজন – লং ফেলো। 11) কাজকে ভালবাসলে কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায় – আলফ্রেড মার্শা
  • Pages

    লেখনীর সূত্রপাত শুরু এখান থেকে

    মঞ্চ হারালো তার প্রিয় সারথি ও অভিভাবক আতাউর রহমানকে ~~~ সানজিদা রুমি



    মঞ্চ হারালো তার প্রিয় সারথি ও অভিভাবক আতাউর রহমানকে 

    বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আবারও নেমে এলো এক গভীর শোকের ছায়া। মঞ্চনাটকের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব, নাট্যকার, অভিনেতা, নির্দেশক ও সংগঠক আতাউর রহমানের প্রয়াণে যেন নিভে গেল বাংলা নাট্যমঞ্চের এক দীপ্তিমান প্রদীপ। তাঁর মৃত্যু কেবল একজন শিল্পীর বিদায় নয়; এটি বাংলাদেশের নাট্য-ইতিহাসের এক বর্ণময় অধ্যায়ের সমাপ্তি। যে মানুষটি কয়েক দশক ধরে শিল্প, সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চাকে নিজের জীবনব্রত হিসেবে ধারণ করেছিলেন, তাঁর চলে যাওয়ায় দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তৈরি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা।

    বাংলা নাট্যাঙ্গনে আতাউর রহমান ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্ব—মননে প্রাজ্ঞ, শিল্পবোধে গভীর এবং সাংগঠনিক দক্ষতায় অনন্য। তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা নাটককে শুধুমাত্র বিনোদনের উপকরণ হিসেবে দেখেননি; বরং সমাজ-সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক জাগরণের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর শিল্পদর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ—মানুষের ভয়, স্বপ্ন, সংকট, প্রতীক্ষা, প্রেম, প্রতিবাদ ও অস্তিত্বের অন্তর্লীন বেদনা।

    ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীর ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। শৈশব থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও তাঁর প্রকৃত আত্মপরিচয় গড়ে ওঠে নাট্যমঞ্চকে ঘিরে। ষাটের দশকে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন নাট্যচর্চার সঙ্গে, আর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের আধুনিক নাট্যআন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরোধা।

    স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে যখন এদেশের সাংস্কৃতিক চর্চা নানা প্রতিবন্ধকতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন আতাউর রহমান নাটককে মানুষের চেতনা জাগানোর এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর তিনি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন “নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়”—যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নাট্যদলে পরিণত হয়। এই সংগঠন কেবল নাটক মঞ্চস্থ করেনি; এটি একটি সাংস্কৃতিক দর্শন নির্মাণ করেছিল, যেখানে শিল্প ও সমাজ একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিল।

    নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আতাউর রহমান ছিলেন দলটির প্রাণশক্তি। তাঁর সঙ্গে পথচলা নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “কী বলব? ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আতা ভাই শুধু সহকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের পরিবারের একজন মানুষ। এত বছরের সম্পর্ক, এত স্মৃতি—সব আজ হঠাৎ করেই শূন্য হয়ে গেল।”

    এই শোক যেন কেবল একজন সহকর্মীর জন্য নয়, বরং একটি সময়ের জন্য। আবুল হায়াত স্মরণ করেন তাঁদের স্কুলজীবনের কথা, চট্টগ্রামের সেই দিনগুলো, যখন এক তরুণ আতাউর রহমানের চোখে ছিল স্বপ্ন আর শিল্পের প্রতি এক অদম্য আকর্ষণ। সেই মানুষটিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাংলা নাট্যজগতের অন্যতম স্তম্ভ।

    ১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের “বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ” নাটক নির্দেশনার মধ্য দিয়ে আতাউর রহমানের মঞ্চনির্দেশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর একের পর এক কালজয়ী নাটক তিনি মঞ্চে নিয়ে আসেন। “গডোর প্রতীক্ষায়”, “গ্যালিলিও”, “রক্তকরবী”, “এখন দুঃসময়”, “অপেক্ষমাণ”—প্রতিটি নাটকেই তিনি তুলে ধরেছেন মানুষের অস্তিত্ব সংকট, সামাজিক দ্বন্দ্ব এবং সময়ের গভীর বাস্তবতা। তাঁর নির্দেশনায় নাটক হয়ে উঠত শুধু মঞ্চসজ্জা বা সংলাপের সমাহার নয়; বরং এক ধরনের দার্শনিক ও মানবিক অভিজ্ঞতা।

    আতাউর রহমানের মঞ্চনির্মাণে ছিল সংযম, নান্দনিকতা ও মননশীলতার অসাধারণ মেলবন্ধন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নাটক দর্শকের হৃদয়ে প্রশ্ন জাগাবে, তাকে ভাবতে বাধ্য করবে। তাঁর নাটকে তাই শব্দের চেয়ে নীরবতার শক্তি অনেক সময় বেশি হয়ে উঠত। তিনি চরিত্রকে কেবল অভিনয়ের মাধ্যমে নয়, ভেতরের মানসিক স্তর উন্মোচনের মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলতেন।

    অভিনেতা হিসেবেও আতাউর রহমান ছিলেন অসামান্য। তাঁর সংলাপ উচ্চারণের স্বতন্ত্র ভঙ্গি, মিতভাষী অথচ গভীর অভিনয় এবং চরিত্র বিশ্লেষণের সূক্ষ্মতা তাঁকে এনে দেয় বিশেষ মর্যাদা। বিটিভির স্বর্ণালি সময়ের বহু নাটকে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় তিনি যেমন সহজাত ছিলেন, তেমনি মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ছিল এক ধরনের গম্ভীর সৌন্দর্যে ভরা।

    তাঁর সম্পর্কে লিখতে গিয়ে কেবলই মনে হয়  তিনি ছিলেন জ্ঞানী, গুণী ও পণ্ডিত মানুষ। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় মাপের শিল্পী হওয়ার পরও তিনি ছিলেন একেবারে শিশুর মতো সহজ-সরল। আমাকে খুব স্নেহ করতেন, পরামর্শ দিতেন। তাঁর শূন্যতা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান, কিন্তু অহংকারহীন। শেক্সপিয়র, রবীন্দ্রনাথ কিংবা পাশ্চাত্য নাট্যতত্ত্ব নিয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল গভীর, কিন্তু তিনি কখনও সেই জ্ঞানকে দূরত্ব তৈরির উপকরণ বানাননি। বরং তরুণ শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করতে, তাদের চিন্তার জগৎ প্রসারিত করতে তিনি আজীবন কাজ করেছেন।

    শিক্ষক হিসেবেও আতাউর রহমান ছিলেন সমান সম্মানিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। তাঁর ছাত্ররা বলেন, তিনি শুধু পাঠদান করতেন না; তিনি শিল্প ও জীবনের সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে শেখাতেন। তাঁর ক্লাস ছিল জ্ঞান, রসবোধ ও অভিজ্ঞতার এক অপূর্ব সমন্বয়।

    সাহিত্যচর্চাতেও ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। “প্রজাপতি নিবন্ধ”, “মঞ্চসারথির কাব্যকথা”, “নাটক করতে হলে”, “নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা”, “ষষ্ঠী তৎপুরুষ”, “দুই দুগুণে পাঁচ” কিংবা “মধ্যরাতের জোকস”—প্রতিটি রচনায় ফুটে উঠেছে তাঁর সমাজ-পর্যবেক্ষণ, ব্যঙ্গরস, বুদ্ধিদীপ্ততা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর লেখায় যেমন ছিল শিল্প-সচেতন মনন, তেমনি ছিল সময়কে নির্মোহভাবে দেখার সাহস।

    বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং বাংলাদেশ সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (BCITI)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নাট্যআন্দোলনকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও পরিচিত করে তুলেছিলেন। নাটককে সমাজমুখী ও প্রজন্মমুখী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

    শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন ২০০১ সালের একুশে পদক এবং ২০২১ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার। কিন্তু পুরস্কারের চেয়েও বড় ছিল মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা, যা তিনি অর্জন করেছিলেন তাঁর সততা, নিষ্ঠা ও শিল্পসাধনার মাধ্যমে।

    আতাউর রহমান ছিলেন সেই বিরল মানুষদের একজন, যাঁরা শিল্পকে পেশা হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবে ধারণ করেন। তাঁর কাছে সংস্কৃতি ছিল জাতির আত্মার প্রতিচ্ছবি। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সংস্কৃতির সঙ্গেই থেকেছেন—চিন্তায়, কর্মে ও সৃজনে।

    আজ তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন যেন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পর যেমন নেপথ্যে দীর্ঘ নীরবতা নেমে আসে, তেমনি এক নীরব বেদনা আজ ঘিরে রেখেছে সমগ্র সংস্কৃতিজগতকে। তবু শিল্পীরা জানেন, এমন মানুষ কখনও সম্পূর্ণ হারিয়ে যান না। তাঁরা বেঁচে থাকেন তাঁদের সৃষ্টি, দর্শন ও রেখে যাওয়া আলোর ভেতর।

    আতাউর রহমান তাই রয়ে যাবেন প্রতিটি নাট্যমঞ্চের নেপথ্যে, প্রতিটি সংলাপের ভেতর, প্রতিটি তরুণ নাট্যকর্মীর স্বপ্নে। বাংলা নাটকের ইতিহাসে তাঁর নাম উচ্চারিত হবে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়—কারণ তিনি শুধু নাটক নির্মাণ করেননি, তিনি নির্মাণ করেছিলেন এক সাংস্কৃতিক চেতনা, এক আলোকিত সময়।


    সানজিদা রুমি কর্তৃক গ্রথিত http://www.alokrekha.com

    8 comments:

    1. টোকন ঠাকুরMay 12, 2026 at 5:12 PM

      আতাউর রহমান শুধু একজন নাট্যব্যক্তিত্ব ছিলেন না । তিনি ছিলেন পুরো একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নাম। এত গভীর ও আবেগময় উপস্থাপনার জন্য রুমিকে ধন্যবাদ। বাংলা নাটকের ইতিহাসে আতাউর রহমানের অবদান নতুন প্রজন্মের জানা খুব জরুরি। লেখাটি তাঁর জীবন ও শিল্পদর্শনকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছ। পড়তে পড়তে বারবার চোখ ভিজে উঠছিল। সত্যিই, এমন মানুষ চলে গেলে শুধু একজন শিল্পী নয়, একটি সময় হারিয়ে যায়। আতাউর রহমানের মতো গুণী মানুষের প্রতি এমন শ্রদ্ধাভরা লেখা বর্তমান সময়ে খুব প্রয়োজন। তাঁর আদর্শ ও চিন্তা ভবিষ্যৎ নাট্যকর্মীদের পথ দেখাবে।

      ReplyDelete
    2. সোফিয়া চৌধুরীMay 12, 2026 at 5:16 PM

      লেখাটির ভাষা, তথ্য ও আবেগের মিশ্রণ অসাধারণ। মনে হচ্ছিল যেন বাংলা নাট্যমঞ্চের এক জীবন্ত ইতিহাস পড়ছি। আতাউর রহমান ছিলেন সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা। তাঁর প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সত্যিই অপূরণীয় ।লেখাটি সেই বেদনাকে গভীরভাবে অনুভব করিয়েছে। এমন মানুষরা কখনও হারিয়ে যান না। তাঁরা তাঁদের সৃষ্টি আর দর্শনের ভেতর বেঁচে থাকেন । লেখাটি সেই সত্যটিই অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শীভাবে মনে করিয়ে দিল।

      ReplyDelete
    3. সাইদুর রহমানMay 12, 2026 at 5:18 PM

      লেখাটি পড়ে সত্যিই গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লাম। আতাউর রহমান শুধু একজন নাট্যকার বা অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর জীবন, কর্ম ও শিল্পদর্শনকে যেভাবে এই লেখায় তুলে ধরা হয়েছে, তা অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও শ্রদ্ধাভরা। বিশেষ করে তাঁর নাটককে সমাজ-সচেতনতার মাধ্যম হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আজকের প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক। এমন গুণী মানুষের প্রয়াণে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো, লেখাটি তা গভীরভাবে অনুভব করিয়েছে।

      ReplyDelete
    4. ডঃ অসীম গোস্বামীMay 12, 2026 at 5:21 PM

      আতাউর রহমানকে নিয়ে অনেক লেখা পড়েছি, কিন্তু এত সুন্দর, পরিপূর্ণ ও মননশীল উপস্থাপন খুব কম দেখেছি। লেখাটির প্রতিটি অনুচ্ছেদে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ রয়েছে। বিশেষ করে নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় প্রতিষ্ঠা এবং নাট্যআন্দোলনে তাঁর অবদানের বিষয়গুলো অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি সত্যিই এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নাটককে শুধু বিনোদন নয়, জাতির চেতনা গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ওনার সাথে কাজ করার। ভাল থাকুন পরপারে ।

      ReplyDelete
    5. নিমা রহমানMay 12, 2026 at 5:23 PM

      পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল যেন বাংলা নাটকের একটি স্বর্ণালি অধ্যায় চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছে। আতাউর রহমানের মতো শিল্পীরা বারবার জন্ম নেন না। তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা, বিনয় ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব আমাদের নাট্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে বহু দশক ধরে। লেখাটি তাঁর ব্যক্তিত্বের নানা দিক অত্যন্ত আবেগঘন ও সাহিত্যিক সৌন্দর্যে তুলে ধরেছে। সত্যিই, তাঁর চলে যাওয়া মানে বাংলা নাট্যমঞ্চের একটি আলোর প্রদীপ নিভে যাওয়া।

      ReplyDelete
    6. সুরাইয়া রহমানMay 12, 2026 at 5:24 PM

      এই লেখাটি শুধু একটি শোকগাথা নয়, এটি বাংলাদেশের নাট্য-ইতিহাসের এক মূল্যবান দলিল। আতাউর রহমানের শিল্পভাবনা, নির্দেশনা, অভিনয় এবং সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে এত গভীর বিশ্লেষণ পড়ে মুগ্ধ হলাম। বিশেষ করে তরুণ শিল্পীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দিকনির্দেশনার বিষয়টি খুব স্পর্শ করেছে। আজকের সাংস্কৃতিক সংকটের সময়ে তাঁর মতো মানুষদের আরও বেশি প্রয়োজন ছিল।

      ReplyDelete
    7. সায়ন্তনি মীমMay 12, 2026 at 5:26 PM

      লেখার ভাষা এতটাই জীবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী যে পড়তে পড়তে বারবার চোখ ভিজে উঠছিল। আতাউর রহমান ছিলেন সত্যিকারের সংস্কৃতিসাধক—যিনি শিল্পকে নিজের জীবনের দায়িত্ব হিসেবে ধারণ করেছিলেন। তাঁর নাট্যচিন্তা, সাহিত্যকর্ম ও সাংগঠনিক অবদান নতুন প্রজন্মকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করবে। লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাঁর জীবন ও দর্শনের গভীরতা তুলে ধরেছেন।

      ReplyDelete
    8. অনন্ত হীরাMay 12, 2026 at 5:30 PM

      বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের ইতিহাসে আতাউর রহমানের নাম চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। তিনি শুধু নাটক নির্মাণ করেননি, তিনি নির্মাণ করেছিলেন এক সাংস্কৃতিক চেতনা। লেখাটিতে তাঁর জীবনসংগ্রাম, শিল্পীসত্তা ও মানবিক দিকগুলো এত সুন্দরভাবে উঠে এসেছে যে এটি পড়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেল। এমন মানুষরা শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও তাঁদের আলো কখনও নিভে যায় না। এই লেখাটি পড়ে মনে হলো, আমরা শুধু একজন শিল্পীকে হারাইনি। হারিয়েছি একজন অভিভাবক, একজন পথপ্রদর্শক এবং এক আলোকিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে। আতাউর রহমানের মতো মানুষরা একটি জাতির শিল্প-সংস্কৃতির ভিত্তি গড়ে দেন। তাঁর অবদান, তাঁর চিন্তা ও তাঁর মানবিকতা আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। লেখাটি তাঁর প্রতি সত্যিকার অর্থেই এক গভীর ও মর্যাদাপূর্ণ শ্রদ্ধাঞ্জলি।

      ReplyDelete

    অনেক অনেক ধন্যবাদ